রবিবার থেকে কবি সুভাষ স্টেশন ভাঙা শুরু, গতি পাচ্ছে এতদিন আটকে থাকা ৫ মেট্রো প্রকল্প 

মেট্রো সূত্রে খবর, দক্ষিণেশ্বরমুখী ট্রেনের জন্য নির্ধারিত প্ল্যাটফর্মের অংশ ভেঙে ফেলা হবে। এই কাজ শুরুর আগে শহিদ ক্ষুদিরাম (ব্রিজি) স্টেশনে একটি নতুন ‘রেক-রিভার্সাল পয়েন্ট’ বা ট্রেন ঘোরানোর ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে পরিষেবা কিছুটা স্বাভাবিক রাখা যায়।

Advertisement
রবিবার থেকে কবি সুভাষ স্টেশন ভাঙা শুরু, গতি পাচ্ছে এতদিন আটকে থাকা ৫ মেট্রো প্রকল্প 
হাইলাইটস
  • উত্তর-দক্ষিণ করিডর বা ‘ব্লু লাইন’-এর কবি সুভাষ (নিউ গড়িয়া) মেট্রো স্টেশনে বহু প্রতীক্ষিত ভাঙা ও পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে রবিবার থেকে।
  • মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্টেশনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ভেঙে নতুন করে তৈরি করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ঝুঁকি না থাকে।

উত্তর-দক্ষিণ করিডর বা ‘ব্লু লাইন’-এর কবি সুভাষ (নিউ গড়িয়া) মেট্রো স্টেশনে বহু প্রতীক্ষিত ভাঙা ও পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে রবিবার থেকে। মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্টেশনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ভেঙে নতুন করে তৈরি করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে কোনও ঝুঁকি না থাকে।

মেট্রো সূত্রে খবর, দক্ষিণেশ্বরমুখী ট্রেনের জন্য নির্ধারিত প্ল্যাটফর্মের অংশ ভেঙে ফেলা হবে। এই কাজ শুরুর আগে শহিদ ক্ষুদিরাম (ব্রিজি) স্টেশনে একটি নতুন ‘রেক-রিভার্সাল পয়েন্ট’ বা ট্রেন ঘোরানোর ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে পরিষেবা কিছুটা স্বাভাবিক রাখা যায়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ জুলাই নিউ গড়িয়া স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের স্তম্ভে ফাটল ধরা পড়ে। এরপর থেকেই ওই স্টেশনে বাণিজ্যিক পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। বর্তমানে শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনই ব্লু লাইনের দক্ষিণ প্রান্তিক স্টেশন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে সেখানে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকায় ট্রেন চলাচলে বিলম্ব এবং অতিরিক্ত ভিড়ের সমস্যা তৈরি হয়েছে।

মেট্রোর জেনারেল ম্যানেজার শুভ্রাংশু শেখর মিশ্র জানিয়েছেন, ১৭ মে থেকে ভাঙার কাজ শুরু হবে। এই কাজ শেষ হতে চার থেকে ৬ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। এরপর নতুন নির্মাণের কাজ সম্পূর্ণ হতে আরও ৬ থেকে ৭ মাস সময় লাগবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

মেট্রো কর্তৃপক্ষের দাবি, শীতকাল, পরীক্ষার মরসুম এবং নির্বাচনের কারণে এতদিন কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। গ্রীষ্মের ছুটির সময় যাত্রী সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় এখনই কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে নিউ গড়িয়ায় ট্রেন ঘোরানোর জন্য অতিরিক্ত সময় লাগছে, যার প্রভাব পুরো ব্লু লাইনের পরিষেবার উপর পড়ছে। এই সমস্যা কমাতে সিগন্যালিং ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে নতুন রিভার্সাল পয়েন্ট চালু হলে পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউ গড়িয়া স্টেশনটি ব্লু লাইন ও অরেঞ্জ লাইনের সংযোগস্থল হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রীকে প্রতিদিন সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি এটি নিউ গড়িয়া শহরতলি রেল স্টেশনের সঙ্গেও যুক্ত ছিল। ফলে স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যাত্রীদের যাতায়াতের পরিকল্পনাও বদলাতে হয়েছে।

Advertisement

মেট্রো সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সাল থেকেই স্টেশনে কাঠামোগত দুর্বলতার লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। পরে প্রবল বৃষ্টির  কারণে ফাটল আরও বাড়ে। এবার স্টেশনটি আরও শক্তিশালী নকশায় তৈরি করা হবে। অতিরিক্ত পাইল ও স্তম্ভ বসিয়ে গোটা কাঠামোকে আরও নিরাপদ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পাশাপাশি, পার্পল লাইনের ক্ষেত্রেও বড় সমস্যা তৈরি হয়ে রয়েছে বি সি রায় মার্কেটকে ঘিরে। ব্যবসায়ীরা বিকল্প জায়গায় যেতে রাজি না হওয়ায় এসপ্ল্যানেড স্টেশনের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরেই আটকে আছে। এই বাজারের দায়িত্বে রয়েছে রাজ্যের পূর্ত দফতর। তবে নতুন পরিস্থিতিতে সেই জটও কাটতে পারে বলে আশাবাদী মেট্রো কর্তৃপক্ষ।

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে কলকাতা মেট্রোর একাধিক প্রকল্পে বড় অঙ্কের বরাদ্দ করা হয়েছে। অরেঞ্জ লাইনের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৭০৫.৫০ কোটি টাকা এবং পার্পল লাইনের জন্য ৯০৬.৬০ কোটি টাকা। গ্রিন লাইন বা ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫২৯ কোটি টাকা। এই অর্থের একটি অংশ বৌবাজারে ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পুনর্নির্মাণের কাজেও ব্যবহার করা হবে।

অন্যদিকে ইয়েলো লাইনের জন্য এখনও নির্দিষ্ট বরাদ্দ ঘোষণা হয়নি। নোয়াপাড়া থেকে বারাসত পর্যন্ত এই লাইনের সম্প্রসারণের প্রস্তাব ইতিমধ্যেই রেল বোর্ডে পাঠানো হয়েছে এবং তা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এছাড়া ব্লু লাইনের পুরনো পরিকাঠামো আধুনিকীকরণের কাজও শুরু হতে চলেছে। দক্ষিণেশ্বর থেকে কবি সুভাষ পর্যন্ত পুরো করিডরে আধুনিক কমিউনিকেশন-বেসড ট্রেন কন্ট্রোল ব্যবস্থা চালুর অনুমোদন মিলেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে ট্রেন চলাচল আরও দ্রুত ও নিরাপদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে কেন্দ্রের দাবি, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রস্তুত থাকলেও এতদিন রাজ্যের অনুমতি ও প্রশাসনিক সহযোগিতার অভাবে কলকাতার একাধিক মেট্রো প্রকল্প বারবার বাধার মুখে পড়েছিল। এবার সেই জট কাটতে শুরু করেছে। ফলে বহু প্রতীক্ষিত মেট্রো সম্প্রসারণের কাজ নতুন গতি পাবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

 

POST A COMMENT
Advertisement