নিম্নচাপের অ্যালার্ট (ছবি: পিক্সেলস)সবে একটা গভীর নিম্নচাপ কাটিয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গ। ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে কয়েক দিন। তারপর ধীরে ধীরে বদল হচ্ছে আবহাওয়ার। আকাশে রোদের দেখা মিলছে। আর এমন পরিস্থিতিতেই আবার খারাপ খবর সামনে আসছে। ফের তৈরি হচ্ছে নিম্নচাপ। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই নয়া নিম্নচাপ অঞ্চলটি মায়ানমার উপকূলের কাছে ঘনিভূত হচ্ছে। নিম্নচাপ তৈরি হলে, এই সিস্টেমটা ক্রমশ উত্তর দিকে এগিয়ে যাবে।
মাথায় রাখতে হবে, গত সপ্তাহে পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ তৈরি হয়েছিল। এর জন্য কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে টানা বৃষ্টি হয়েছিল। যদিও শনিবার থেকে হাওয়া বদল হয়। ধীরে ধীরে কমতে থাকে বৃষ্টি। তবে ফের একটা নিম্নচাপ অঞ্চল মায়ানমার উপকূলে তৈরি হচ্ছে বলে খবর।
নিম্নচাপটি এখন কোথায়?
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দক্ষিণ মায়ানমার ও সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হয়েছিল একটি নিম্নচাপ অঞ্চল। সেটি রবিবার বিকেলেই আন্দামান সাগরে পৌঁছে সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। সোমবার এটি আরও উত্তর-উত্তর পশ্চিম দিকে সরে যাবে। এরপর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তারপর উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে দুই দিনের মধ্যেই মায়ানমার বাংলাদেশ উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রে নিম্নচাপটি পৌঁছে যেতে পারে।
এই নিম্নচাপের প্রভাবে ওই নির্দিষ্ট এলাকায় ৪৫ থেকে ৫৫ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই কারণে মায়ানমার-বাংলাদেশ উপকূল সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য ও উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা জারি রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের উপর নিম্নচাপের প্রভাব পড়বে কতটা? আবার শুরু হবে ঝড়বৃষ্টি?
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, মায়ানমারের কাছে এই নিম্নচাপটি তৈরি হতে চলেছে। যার প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এমনকী রাজ্যের সমুদ্রেও এই নিম্নচাপের প্রভাব প্রায় পড়বে না।
তাই কলকাতা থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে নতুন করে ব্যাপক ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা খুব একটা থাকছে না। যদিও আবহাওয়া দফতর এটির উপর এখনও নজর রাখছে। এখন দেখার নিম্নচাপটি অন্য দিকে মোড় নেয় কি না।
প্রসঙ্গত, সোমবার কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে। যেই কারণে আলাদা করে কোনও সতর্কতা জারি করা হয়নি।
যদিও দার্জিলিং, কালিম্পংয়ের মতো পাহাড়ের জেলাগুলিতে বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও হালকা বৃষ্টি হতে পারে।