দিলীপ ঘোষ (ফাইল ছবি)একজন বিধায়ক বা মন্ত্রী নিজের এলাকার কোনও পুজো কমিটির সভাপতি হতে পারেন, সেটা তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, রাস্তায় বেরিয়ে একের পর এক পুজোর দায়িত্ব রাজনৈতিক ব্যক্তি, বিধায়ক, সাংসদ বা রাজনৈতিক দলের নেতারা নিজেদের হাতে তুলে নেবেন। এমনটাই জানিয়েছিলেন রাজ্য BJP সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। অথচ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, এর বিপরীত চিত্র। নিউ টাউন সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির একটি সাম্প্রতিক পোস্টারে দেখা গিয়েছে দিলীপ ঘোষের নাম। তাঁকে দেওয়া হয়েছে একটি নির্দিষ্ট পদ। তবে কি দলের সভাপতির বার্তা এ ক্ষেত্রে মানা হল না? bangla.aajtak.in-কে কী জানাল নিউ টাউনের এই পুজো কমিটি?
নিউ টাউনের পুজোর মাথায় খড়গপুরের বিধায়ক দিলীপ
পঞ্চম বর্ষে পড়েছে নিউ টাউন সর্বজনীন দুর্গোৎসব। এই পুজো কমিটি ছাব্বিশের দুর্গোৎসবে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষকে তাঁদের চিফ অ্যাডভাইজর পদে রেখেছেন। সেই পোস্টার ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, খড়গপুরের বিধায়ককে কেন নিউ টাউনের পুজো কমিটি এই পদে বসাল?
এ প্রসঙ্গে bangla.aajtak.in নিউ টাউন সর্বজনীনের যুগ্ম সম্পাদক পীযূষ রঞ্জন ঘোষ বলেন, 'উপদেষ্টা কখনও সভাপতি বা সম্পাদক হয় না। নিউ টাউনের মানুষই এই পদগুলিতে রয়েছেন। যেহেতু উনি পঞ্চায়েত এবং গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী এবং নিউ টাউন এখনও মিউনিসিপ্যালিটি হয়নি, সে কারণে ওঁকে উপদেষ্টা হিসেবে রাখতে কোনও আপত্তি হয়নি।' তিনি আরও যোগ করেন, 'দিলীপবাবুও আমাদের উপদেষ্টা হিসেবে থাকতে চেয়েছেন। ইকো পার্কে উনি নিয়মিত আসেন, আমাদের রক্তদান শিবির, বৃক্ষরোপনের মতো কর্মসূচিতে উনি জড়িত। এটা প্রথম নয়, এ বছরও যা কর্মসূচি করেছি উনি সস্ত্রীক সেখানে এসেছেন। উনি আমাদের উপদেশ দেবেন, যাতে আমরা সেই উচ্চতায় পুজোটাকে নিয়ে যেতে পারি, নিউ টাউনকে গর্বিত করতে পারি।'
তৃণমূল আমলে কলকাতা শহরের অধিকাংশ পুজোই কোনও না কোনও নেতা-মন্ত্রী, বিধায়কের পুজো হিসেবেই পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে পুজো কমিটিকে কেন্দ্র করেও নানা দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের সুরুচি সঙ্ঘের মধ্যে ত্রাণের সামগ্রী, খাট বিছানা পাওয়ার ঘটনা থেকে দেশপ্রিয় পার্কে পৃষ্ঠপোষক দেবাশিস কুমার কিংবা তাঁর ভাইদের সময়ে বেআইনি ক্লাবঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সেই জায়গা থেকে দাঁড়িয়েই শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য ছিল, কোনওমতেই যেন পুজোয় দখলদারি না আসে। দলের নেতা-মন্ত্রীরা পুজোতে অংশ নিলও কমিটিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়টিকে এড়িয়ে যাওয়া উচিত বলেই মত ছিল তাঁর। এমনকী, নিজেও কলেজ পুজোর মাথায় বসতে অস্বীকার করেছেন।
এ প্রসঙ্গে পীযূষ রঞ্জন ঘোষ বলেন, 'নিউ টাউন সর্বজনীন মানুষের পুজো। কোনওকালেই রাজনৈতিক নেতাদের পুজো এটা ছিল না। আলাদা আলাদা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসে এই পুজো শুরু করেছিলাম ৫ বছর আগে। তবে আমরা সরকারের সঙ্গে ছিলাম, সরকারের সঙ্গেই থাকব। যেহেতু দিলীপবাবু নিউ টাউনে থাকেন তাই ওঁকে আমরা উপদেষ্টা হিসেবে রেখেছি। উনিও রাজি হয়েছেন। রাজনৈতিক রং নিউটাউনে কখনওই লাগবে না।'
অগাস্টের শুরুতেই খুঁটিপুজোর আয়োজন করা হয়েছে এই পুজোর। তখনই হবে থিম রিভিল। নিউ টাউন সর্বজনীন দুর্গোৎসব-এর গত বছরের থিম ছিল ‘ফুলের সাজে, ফুলের মাঝে, মা দুর্গা মোদের মাঝে’। এবার দেখার, পালাবদলের নিউ টাউনে কতটা ক্রাউড পুলার হয় এই দুর্গাপুজো।