দিলীপ ঘোষ সুরেন্দ্রনাথ নিয়ে কী বললেন? সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে উইপোকায় খাওয়া কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা, কন্ডোম, মদের বোতল উদ্ধার হওয়ার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য পড়ে গিয়েছে। কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী কলেজের অন্দরে কী চলছিল, তা নিয়ে এবার বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ। এই ইস্যুতে প্রাক্তন রাজ্য সরকারকে তুলোধনা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী।
বুধবার এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, 'গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে শেষ করে দিয়ে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন রাস্তায় গিয়ে নাটক করছেন।' রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ছাত্র ইউনিয়নের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তোলেন তিনি। দিলীপের কথায়, 'কলেজগুলি এখন রিসর্ট হয়ে গিয়েছে। রেস্তোরাঁ হয়ে গিয়েছে। এটাই তো চলে এসেছে এতদিন ধরে। কোনও ইউনিয়ন নেই, সেখানে সাধারণ ছাত্ররা কেউ যেতে পারবে না।'
কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে চলা সিন্ডিকেট রাজের প্রসঙ্গ টেনে রাজ্যের মন্ত্রীর অভিযোগ, 'কলেজে ভর্তির প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত করতে অনলাইনে ব্যবস্থা চালু করার জন্য কত লড়াই করতে হয়েছে। তা-ও ঠিকমতো কাজ হয়নি। যাতে অনলাইনে স্বচ্ছভাবে ভর্তি না করা যায়, সেই চেষ্টাই করা হয়েছিল একদল লোকের তরফ থেকে। কেন জানেন? কারণ, ছাত্র ভর্তি করিয়ে দিতে এক একজনের থেকে ৩০-৪০ হাজার, এমনকী ৫০ কিংবা ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো। নিজেদের বাছাই করা ছাত্রদের মোটা টাকা নিয়ে ভর্তি করা হতো। এইভাবে বহু লোক কোটিপতি হয়েছে। এর আগেও এই দুর্নীতির বিষয়টা আমরা বলেছিলাম। আজ হাতেনাতে সেটা প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে। উইপোকায় টাকা খেয়ে নিচ্ছে, কারণ এত কালো টাকা যে রাখারই জায়গা নেই।'
দিলীপ ঘোষের সাফ কথা, তৃণমূল সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাক্ষেত্রের মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, 'গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাটাকেই উনি একেবারে ধ্বংস করে দিয়ে গিয়েছেন। এখন নিজের পিঠ বাঁচাতে রাস্তায় গিয়ে আন্দোলনের নাটক করছেন।'
উল্লেখ্য, গতকালই শিয়ালদার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের একটি আলমারি থেকে বান্ডিল বান্ডিল টাকা উদ্ধার হয়। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় সেই টাকার একটা বড় অংশ উইপোকায় নষ্ট করে দিয়েছে। ওই কলেজের ইউনিয়ম রুম থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, মদের বোতল, কন্ডোম উদ্ধার হতেই আরও ভয়ঙ্কর কিছু প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কলেজের ইউনিয়ন রুমেই কি চলছিল দুষ্কর্ম?