৩১ জুলাইয়ের মধ্যে কলকাতার ২০০ ওয়ার্ডের খসড়া প্রকাশ, পুনর্বিন্যাসে কী কী বদল আসছে?

সোমবার পুরসভার বিশেষ কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত কেন্দ্রীয় পুনর্বিন্যাস কমিটি ১৬টি বরো-স্তরের কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্য, নীতি এবং সরেজমিনে সমীক্ষার সময় কী কী বিষয় মাথায় রাখতে হবে, তা বিস্তারিতভাবে জানানো হয়। প্রতিটি বরোর জন্য আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Advertisement
৩১ জুলাইয়ের মধ্যে কলকাতার ২০০ ওয়ার্ডের খসড়া প্রকাশ, পুনর্বিন্যাসে কী কী বদল আসছে?কলকাতা পুরসভা।-ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার।
  • এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে বর্তমান ১৪৪টি ওয়ার্ড বেড়ে প্রায় ২০০টি হতে পারে।

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে বর্তমান ১৪৪টি ওয়ার্ড বেড়ে প্রায় ২০০টি হতে পারে। পুর কর্তৃপক্ষের আশা, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যেই নতুন ২০০টি ওয়ার্ডের খসড়া প্রকাশ করা হবে।

সোমবার পুরসভার বিশেষ কমিশনারের নেতৃত্বে গঠিত কেন্দ্রীয় পুনর্বিন্যাস কমিটি ১৬টি বরো-স্তরের কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে পুনর্বিন্যাসের লক্ষ্য, নীতি এবং সরেজমিনে সমীক্ষার সময় কী কী বিষয় মাথায় রাখতে হবে, তা বিস্তারিতভাবে জানানো হয়। প্রতিটি বরোর জন্য আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কেএমসি-র প্রশাসক ও কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে গড়ে ১৬ হাজার থেকে ১৮ হাজার ভোটার রাখার লক্ষ্যেই নতুন সীমানা নির্ধারণ করা হচ্ছে। বর্তমানে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যায় ব্যাপক অসামঞ্জস্য রয়েছে। কোথাও ৮০ হাজারের বেশি ভোটার, আবার কোথাও মাত্র ১২ থেকে ১৫ হাজার ভোটার রয়েছে। এই বৈষম্য দূর করাই পুনর্বিন্যাসের মূল উদ্দেশ্য।

উদাহরণ হিসেবে, টপসিয়ার ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৮০ হাজারেরও বেশি ভোটার রয়েছেন। অন্যদিকে, শ্যামপুকুর বিধানসভা এলাকার কয়েকটি ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা মাত্র ১২ হাজারের কাছাকাছি। একইভাবে, মুকুন্দপুরের ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৪৫ হাজার ভোটার থাকলেও বড়বাজারের কয়েকটি ওয়ার্ডে সেই সংখ্যা ১৫ হাজারেরও কম।

পুরকর্তাদের মতে, নতুন ডিলিমিটেশনের ফলে আয়তন, জনসংখ্যা এবং ভোটারের সংখ্যার নিরিখে ওয়ার্ডগুলির মধ্যে আরও সুষম ভারসাম্য তৈরি হবে। যেসব ওয়ার্ড অত্যন্ত বড় বা অতিরিক্ত ভোটারসংখ্যা রয়েছে, সেগুলিকে ভেঙে একাধিক নতুন ওয়ার্ড গঠন করা হবে।

তবে ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়লেও বরোর সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকবে। বর্তমানে কেএমসি-তে ১৬টি বরো রয়েছে এবং আপাতত সেই সংখ্যাই বজায় রাখা হবে।

পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হল, কোনও ভোটকেন্দ্র (বুথ) বা বুথের অংশ ভেঙে একাধিক ওয়ার্ডে ভাগ করা হবে না। প্রয়োজনে একটি সম্পূর্ণ বুথ এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা যেতে পারে, কিন্তু একই বুথের ভোটারদের আলাদা ওয়ার্ডে ভাগ করা হবে না।

Advertisement

এছাড়া, পুরনো একটি ওয়ার্ড ভেঙে একাধিক নতুন ওয়ার্ড তৈরি হলেও সেগুলি একই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যেই থাকবে। অর্থাৎ, এই পুনর্বিন্যাস শুধুমাত্র পুরসভার ওয়ার্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিধানসভা কেন্দ্রগুলির সীমানায় কোনও পরিবর্তন করা হবে না।

পুর কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, কেএমসি-র মোট আয়তন ২০৬.০৮ বর্গকিলোমিটার অপরিবর্তিত থাকবে। শুধুমাত্র প্রশাসনিক সুবিধা এবং নাগরিক পরিষেবা আরও কার্যকর করতে ওয়ার্ডগুলির সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করা হচ্ছে।

 

POST A COMMENT
Advertisement