LPG সঙ্কটে হসপিটাল ম্যানইরানে যুদ্ধ চলছে। বন্ধ হরমুজ প্রণালী। আর সেই যুদ্ধের আঁচ এসে পড়েছে কলকাতার পার্থ করচৌধুরীর উপর। মন খারাপ কলকাতার হসপিটাল ম্যানের। LPG সঙ্কট তাঁর দৈনন্দিন সমাজ সেবাতেও আঘাত হেনেছে। গ্যাসের সিলিন্ডারের অভাবে তিনি হাসপাতালের রোগীর পরিজনদের বিনামূল্যে খাওয়াতে পারছেন না। যদিও পরিস্থিতি ঠিক হলে খুব তাড়াতাড়ি তিনি হাসপাতালের সামনে খাবার নিয়ে ফিরবেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, পেশায় পুলকার চালক পার্থ হসপিটাল ম্যান নামেই পরিচিত। তিনি বেশ কিছু বছর ধরেই পিজি, শম্ভুনাথ পণ্ডিত, চিত্তরঞ্জন ক্যানসার এবং এমআর বাঙুর হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর পরিজনদের বিনামূন্যে খাবার দেন। এই কাজটা তিনি দিনের দুইবেলাই করে আসেন। আর সেই কাজটাই এখন বন্ধ রয়েছে বলে জানালেন পার্থ।
bangla.aajtak.in-কে তিনি বলেন, 'আমার অনেকটা রান্না হয়। তাই প্রচুর গ্যাস লাগে। যেই কারণে আমার গৃহস্থের গ্যাসে চলে না। আমি বাণিজ্যিক সিলিন্ডার নিই। কিন্তু এখন বাণিজ্যিক সিলিন্ডার পাওয়াই যাচ্ছে না। যার ফলে রান্না করার কোনও সুযোগই নেই। তাই বুকে কষ্ট নিয়েই আমায় কাজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।'
তাঁর আরও দাবি, 'করোনার সময় খাবার দিতে পেরেছিলাম। কিন্তু এখন আর পারছি না। গ্যাসের সঙ্কটের জন্যই বন্ধ করে দিতে হল বিনামূল্যে খাবার দেওয়া।'
মাথায় রাখতে হবে, ইরান যুদ্ধ চলছে। এমতাবস্থায় রান্নার গ্যাস বা LPG নিয়ে সমস্যা চরমে উঠছে। বিশেষত, বাণিজ্যিক গ্যাস প্রায় পাওয়াই যাচ্ছে না। আর সেই কারণেই বন্ধ রয়েছে হসপিটাল ম্যানের পরিষেবা।
কবে ফিরবে পরিষেবা?
মহামায়াতল লেনের বাসিন্দা ৫৫ বছরের পার্থ এর উত্তরে বলেন, 'ব্ল্যাকে গ্যাস কিনে কাজ করতে চাই না। এটা নিয়ম বিরুদ্ধ কাজ। তাই এখন বন্ধ রেখেছি। তবে আশা করছি এই সপ্তাহের শেষের দিকে বা পরের সপ্তাহের প্রথমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তারপর আবার নতুন করে চালু করা যাবে পরিষেবা।'
'প্রতিদিন ১৫০ জন খাবার পাচ্ছে না'
তিনি বলেন, 'আমি রোজ দুইবেলা খাবার দিই। দুপুরে ৬০ জনের মতো খাবার দিই। রাতে দিই ৯০ জনের মতো। আর এখন সব বন্ধ। ১৫০ জনকেই খাবারই দিতে পারছি না। এটা ভেবেই কষ্ট হচ্ছে। তাই সোমবার হাসপাতালে এমনিই গিয়েছিলাম।'
এখন দেখার কবে গ্যাস সঙ্কট মেটে, কবে হাসপাতালে ফিরে যান হসপিটাল ম্যান!