পুজোয় রোজ বৃষ্টি!চলতি মাসেই তৈরি হতে চলেছে শক্তিশালী সাইক্লোন। আর তার ল্যান্ডফলের জেরে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে পশ্চিমবঙ্গে। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কেবলমাত্র এ মাসেই আটকে থাকবে না। অক্টোবরেও থাকবে রেশ, কারণ ঘূর্ণিঝড় টেনে আনবে আটকে থাকা বর্ষাকে। ফলস্বরূপ সেই বর্ষা স্থায়ী হবে অক্টোবরেও। দুর্গাপুজোর দিনগুলি বৃষ্টিতে ভাসার প্রবল সম্ভাবনা বলেই আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।
চলতি মাসেই সাইক্লোন
বিশিষ্ট আবহাওয়াবিদ ড. সুজীব কর বলেন, 'চলতি মাসের ২৪ তারিখ একটি সাইক্লোন তৈরি হতে চলেছে বঙ্গোপসাগরে। এর প্রভাব পড়বে পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা উপকূলে। এখনও পর্যন্ত এর ল্যান্ডফলের এলাকা বোঝা সম্ভব না হলেও ওড়িশা এবং বাংলায় উপকূলবর্তী অঞ্চলেই কোথাও হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদি না অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে এর গতিপথ ঘুরে যায়, বাংলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।'
পুজোয় বৃষ্টি হবে?
ড. সুজীব করের বক্তব্য, 'পুজোয় বৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ এই ঘূর্ণিঝড় সেপ্টেম্বর মাসে এলেও এর রেশ থাকবে অক্টোবর পর্যন্ত। কারণ এটি আটকে থাকা বর্ষাকে সঙ্গে করে নিয়ে আসবে। তার জেরে টানা বৃষ্টিপাত হবে। অক্টোবর মাস জুড়েই টানা বৃষ্টি হবে। ফলত পুজোর দিনগুলিতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।'
পুজোয় কেমন থাকবে আবহাওয়া?
আবহাওয়াবিদরা দাবি করছেন, গোটা জলবায়ু সিস্টেমেরই পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে সুপার এল নিনোর জন্য। এতে সারা বছর অতিরিক্ত গ্রীষ্ম, টানা সাইক্লোনিক বৃষ্টি এবং স্বল্প সময়ের শীত ছাড়া আর কিছুই দেখা যাবে না। ড. সুজীব কর বলছেন, 'শরৎকাল বলে আর কিছু অনুভূতই হবে না। তাপমাত্রা এতটাই বেশি থাকবে, তাতে শরৎকালের মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে না। পুজোর সময়ে তাপমাত্রা অত্যধিক বেশি থাকবে। সাইক্লোনিক বৃষ্টি স্বাভাবিক বর্ষার বৃষ্টি থেকে অনেকটাই আলাদা চরিত্রের। এটি যে কোনও সময়ে অতিবৃষ্টি ঘটিয়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করে দিতে পারে।'
পশ্চিমবঙ্গের উপর সুপার এল নিনোর কী প্রভাব?
ড. সুজীব কর বলেন, 'গোটা দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে ক্ষরা পরিস্থিতি তৈরি হবে। আর যখন বৃষ্টিপাত হবে তখন অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে বন্যা হবে। শীতের প্রভাব দক্ষিণবঙ্গে ১৫-২০ দিনের বেশি হবে না। কলকাতায় বৃষ্টি আরও কমে যাবে। কলকাতায় হিট অ্যাইল্যান্ড অ্যাক্টিভ হয়ে গিয়েছে। তাপমাত্রা আগামী বছর ৪০-৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।'