Durga Puja 2026 Kumortuli: কুমোরটুলিতে হবে অত্যাধুনিক বিল্ডিং? খোলনোলচে বদলে যাবে শীঘ্রই

আমূল বদলে যেতে পারে কুমোরটুলি। সরু সরু গলির মধ্যে ত্রিপলে ঢাকা মৃৎশিল্পীদের স্টুডিও শিফট করে যেতে পারে কংক্রিটের বড় বিল্ডিংয়ে। মৃৎশিল্পীরা জানালেন প্রশাসনের তরফে কী পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে?

Advertisement
কুমোরটুলিতে হবে অত্যাধুনিক বিল্ডিং? খোলনোলচে বদলে যাবে শীঘ্রইত্রিপলে ঢাকা টিনের চালের নীচে প্রতিমা
হাইলাইটস
  • আমূল বদলে যেতে পারে কুমোরটুলি
  • মৃৎশিল্পীদের স্টুডিও হবে কংক্রিটের বিল্ডিংয়ে
  • প্রশাসনের তরফে কী পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে?

আমূল বদলে যেতে পারে কুমোরটুলি। সরু সরু গলির মধ্যে ত্রিপলে ঢাকা মৃৎশিল্পীদের স্টুডিও শিফট করে যেতে পারে কংক্রিটের বড় বিল্ডিংয়ে। শুনতে অবাক লাগলেও, কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীদের দাবি, এমন পরিকল্পনার কথাই প্রশাসন জানিয়েছে তাঁদের। কুমোরপাড়ার সংস্কার করে সেটিকে অত্যাধুনিক মানের করে তুলতে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নতুন সরকার। কী কী বদল চাইছেন মৃৎশিল্পীরা? 

দীর্ঘদিন ধরে প্রতিমা গড়ছেন শিল্পী রুদ্রজিৎ পাল। তাঁর শ্রীকৃষ্ণ পাল স্টুডিওতে ঢুঁ মারতেই চোখে পড়ছে একের পর এক সাবেকী দুর্গা প্রতিমা। অধিকাংশেই চলছে রঙের শেষ প্রলেপ। কোনও কোনওটার আবার চোখ আঁকার কাজ করছেন শিল্পী। চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষ হলেই মা দুর্গা পাড়ি দেবেন নির্দিষ্ট গন্তব্যে (প্যান্ডেলে)। তার মাঝেই bangla.aajtak.in-এর সামনে শিল্পী জানালেন তাঁদের সুবিধা-অসুবিধার কথা। 

রুদ্রজিৎ পাল বলেন,'এখন আমাদের মূল দাবি, কুমোরটুলি যেন পরিস্কার করা হয়। এর যেন সংস্কার হয়। এই টিনের চাল, মাটিতে গর্ত, এ সব যেন আর না থাকে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা এবং একটু বড় জায়গা দিলে আমরা কাজ করতে পারব ভাল ভাবে। তাছাড়া যে দর্শকরা আমাদের স্টুডিওতে প্রতিমা গড়ার কাজ দেখতে আসেন, ছবি তুলতে আসেন, তারাও এসে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কুমোরটুলি দেখতে পাবেন।' 

তবে কি ভোল বদলে যাবে কুমোরটুলির? শিল্পী দাবি করেন, 'কংক্রিট বিল্ডিং তৈরির কথা জানিয়েছেন প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। তাঁরা এসে ঘুরে দেখে গিয়েছেন এই স্টুডিওগুলি। তাঁরা জানিয়েছেন, বিল্ডিং তৈরি হলে সেখানে আন্ডারগ্রাউন্ডে আমাদের স্টুডিওর জায়গা তৈরি হবে। সেখানেই আমরা প্রতিমা গড়তে পারব। তবে সবটাই পরিকল্পনার কথা বলেছেন তাঁরা। দেখা যাক, কতটা কি বাস্তবায়িত হয়।'

মৃৎশিল্পীরা কি চিরাচরিত ত্রিপলে ঢাকা স্টুডিওর বদলে অত্যাধুনিক বিল্ডিংয়ের আন্ডারগ্রাউন্ডে প্রতিমা গড়তে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন? রুদ্রজিৎ পাল বলেন, 'যদি কংক্রিটের বিল্ডিং হয় তাহলে তো প্রোটেকশন থাকবে। প্রতিমা গড়ার সময়ে বৃষ্টি হলে জল পড়বে না। পলিথিন কিনে ঠাকুর ঢাকতে হবে না।' 

Advertisement

যদি বা শিল্পীর দাবি অনুযায়ী সত্যিই প্রশাসন কুমোরটুলির সংস্কার করে এবং ভোল বদলে দেয় এই কুমোরপাড়ার, সেক্ষেত্রে চিরাচরিত দৃশ্যগুলি উধাও হবে। কুমোরটুলির সেই সরু গলিতে প্রতিমা তৈরির ঐতিহ্য কিছুটা হলেও বদলাবে। যদিও শিল্পীর বক্তব্য, যখন আধুনিকীকরণ হবে, তখন দেখা যাবে মানুষ নতুন ভাবে কুমোরটুলিকে কতটা গ্রহণ করছে। 

রাজ্যের মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী অগাস্ট মাসেই কুমোরটুলি পরিদর্শনে যান। মৃৎশিল্পীদের সংগঠনের কাছে এখানকার উন্নয়নে কী কী পরিকল্পনা করা যেতে পারে, সে বিষয়টি লিখিত আকারে জানাতে বলেন তিনি। রুদ্রজিৎ পালের মতো শিল্পীরা নিজেদের সুবিধা অসুবিধার কথা বলে চিঠিও দিয়েছেন দফতরে। 

সৃষ্টিশীল মানুষের কাছে আকর্ষণের অন্যতম স্থান উত্তর কলকাতার এই এলাকা। এখানকার শিল্পীদের সৃষ্টি কদর পায় সারা বিশ্বজুড়ে। সেই চিরাচরিত কুমোরটুলির কি তবে ভোল বদল হতে চলেছে ? কুমারটুলির সার্বিক উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করতে চাইছে সরকার। শিল্পীদের পাকা ছাদ, স্টুডিও, আর্ট কলেজের মতো অনেক কিছু করার পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে বলে খবর।  প্রায় ২৫০-৩০০ মৃৎশিল্পী এখানে কাজ করেন। বর্ষা এলে কাদায় এখানে পা ফেলা দায়। অধিকাংশ চত্বরই টিন বাঁশ, প্ল্যাস্টিকের আবরণে ঢাকা। সেখানেই হাজার মানুষের ভিড় জমে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তাই সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। 

শিল্পীদের কথায়, শুধু তো আর প্রতিমার বায়নার জন্য নয়। কুমোরটুলিতে মানুষ দেখতে আসেন এখানকার শিল্পকলা। এখানকার সৃষ্টি। তাই এখানকার পরিবেশ একটু ভাল হলে গোটা দেশের কাছে বাংলার মুখই উজ্জ্বল হবে। সঙ্গে তাঁদের জীবনযাত্রারও উন্নতি হবে। 

 

POST A COMMENT
Advertisement