সোমবার সুপ্রিম কোর্টে জোড়া মামলা করল EDআই-প্যাক কাণ্ডে রাজ্যের বিরুদ্ধে জোড়া মামলা দায়ের করল ইডি। তবে শুধু রাজ্য সরকার নয়, সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা মামলায় খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ডিজিপি রাজীব কুমার এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ কুমারের নামও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ইডির অভিযোগ, আই-প্যাক-এ অভিযানের সময় তাঁরা তদন্তে বাধা দিয়েছেন ও প্রমাণ নষ্ট করেছে।
ইডি-র তরফে ছাড়াও আর্থিক তদন্তকারী সংস্থার আরও তিন আধিকারিকও সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে পিটিশন ফাইল করেছে। এই তিন আধিকারিক আই-প্যাক তল্লাশি অভিযানে হাজির ছিলেন। এই পিটিশনেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডিজিপি রাজীব কুমারের নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তল্লাশি চালানোর সময় এদের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য এর আগেও I-PAC ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ইডি। শনিবার সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় একটি আবেদন করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কয়লা কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে, অভিযোগ জানিয়ে CBI তদন্তের আর্জি জানিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
আর্থিক তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, তাদের আধিকারিকদের আইনসম্মতভাবে তল্লাশি চালানো এবং কয়লা পাচার মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য বাজেয়াপ্ত করতে বাধা দেওয়া হয়। ED-র আরও দাবি, রাজ্যের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতেই সংশ্লিষ্ট ওই স্থানগুলি থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস জোর করে সরিয়ে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, পিছিয়ে নেই রাজ্যও। I-PAC এর ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ED তল্লাশি ঘিরে যে নাটকীয় আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে, তার রায় যেন একপক্ষের দিকে না যায়, সেই কারণে সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে রাজ্য সরকার। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে, এই কেসে যদি শীর্ষ আদালত কোনও শুনানি করে তবে রাজ্য সরকারের বক্তব্য না শুনে যেন কোনও একতরফা নির্দেশ জারি না করা হয়।
প্রসঙ্গত, কলকাতা হাইকোর্টেও ED একটি আবেদন দায়ের করেছিল। যেখানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তল্লাশি অভিযানে বাধা দেওয়ার অভিযোগে FIR দায়েরের দাবি জানানো হয়। তবে ওই মামলার শুনানি এখনও হয়নি। প্রথম সিঙ্গল বিচারপতির বেঞ্চ এবং পরে কার্যনির্বাহী প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চও ১৪ জানুয়ারির আগে কোনও শুনানি করতে অস্বীকার করেছে।