TMC-র অ্যাকাউন্ট থেকে ১৬০ কোটি লেনদেনের হদিশ পেল ইডি, অভিষেকের চাটার্ড বিমানের ভাড়া দিত কে?

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাটার্ড বিমানের ভাড়া থেকে কোথায়, কাদের সঙ্গে, কত টাকা লেনদেন হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে কলকাতার পাঁচ জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট । যে জায়গালিতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, সেগুলি উড়ান সংস্থা কেয়ারওয়েল গ্রুপ অফ কোম্পানিজের। জানা গেছে যে, আনুমানিক ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে AITC-র অ্যাকাউন্ট থেকে কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড এবং এর সম্পর্কিত সংস্থায় প্রায় ১৬০ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিল।

Advertisement
TMC-র অ্যাকাউন্ট থেকে ১৬০ কোটি লেনদেনের হদিশ পেল ইডি, অভিষেকের চাটার্ড বিমানের ভাড়া দিত কে? কলকাতার ৫ জায়গায় ইডির অভিযান

অ্যাকশনে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মঙ্গলবার সকাল থেকেই কলকাতার ৫ জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে কেন্দ্রীয় এই সংস্থা। ইডি সূত্রে দাবি, তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে কত টাকা রয়েছে, বর্তমান সিগনেটরি কে রয়েছেন, এই সবই জানতে চান তাঁরা।  তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত মামলায় ইডির নজরে রয়েছে ১৬০ কোটি টাকার বেশি সন্দেহজনক লেনদেন। এই টাকা কয়েকটি সংস্থার মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে বলে অনুমান। ইডির নজরে রয়েছে বিভিন্ন ভ্রমণ এবং বিমান পরিষেবা সংস্থা। সূত্রের খবর, প্রাথমিক তদন্তে কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। এই ঘটনায় ইডির আতশকাচের নীচে রয়েছে ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’ নামক একটি সংস্থা। সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মতো ভিভিআইপি-দেরও বিমান ভাড়া দিত এই সংস্থাটি।   

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাটার্ড বিমানের ভাড়া থেকে কোথায়, কাদের সঙ্গে, কত টাকা লেনদেন হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে কলকাতার পাঁচ জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED Raid)। মঙ্গলবার সকালে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, রাজারহাট-নিউটাউন ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়েছে ইডির আলাদা আলাদা দল। এর মধ্যে অভিষেক ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর অফিস ও বাড়িও রয়েছে। সূত্রের খবর, ওই ব্যবসায়ীর সংস্থা থেকে অভিষেকের বিমানভাড়া আসত। তৃণমূলের নিজস্ব তহবিলের সঙ্গে এর কী যোগ, তা খুঁজে বের করত তৎপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।

 AITC-র নির্দিষ্ট কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সন্দেহজনক তহবিল পাচার, অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ এবং অসৎ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে ৫টি জায়গায়  তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যে জায়গালিতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, সেগুলি উড়ান সংস্থা কেয়ারওয়েল গ্রুপ অফ কোম্পানিজের।  জানা গেছে যে, আনুমানিক ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে AITC-র অ্যাকাউন্ট থেকে কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড এবং এর সম্পর্কিত সংস্থায় প্রায় ১৬০ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিল। কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেড আরও ৮২.৯৬ কোটি টাকা (২০২৩-২০২৬) অন্য একটি নতুন  সংস্থায় পাচার করে। তল্লাশির সময় জানা গেছে, একটি এমব্রেরার লিগ্যাসি ৬০০ বিমান এবং একটি অগাস্টা ১০৯ এসপি হেলিকপ্টার কেনার জন্য  কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের সম্পর্কিত একটি সংস্থায়  উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পাঠানো হয়েছিল। উক্ত কেনাকাটার জন্য ১১২ কোটি টাকা ব্যবহার করা হয়েছিল।

Advertisement

 আরও জানা গেছে যে, অগাস্টা হেলিকপ্টারটি কেনার জন্য কিছু বিদেশি তহবিলও ব্যবহার করা হয়েছে। তবে, তহবিলের সিংহভাগই সরাসরি এআইটিসি-র হিসেব থেকে এসেছে। এই লেগাসি ৬০০ এমব্রেয়ার বিমান এবং অগাস্টা হেলিকপ্টারগুলো এআইটিসি-র ফান্ড  থেকে কেনা হলেও, সেগুলো এআইটিসি-কেই ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। এরপর, বিমান ব্যবহারের অজুহাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর করা হয়। পুরো ব্যবস্থাটি অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে মনে করছে ইডি।
 

POST A COMMENT
Advertisement