প্রতীকী ছবি বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। এর মাঝেই কলকাতায় বড়সড় তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। শহরের ৭টি স্থানে তল্লাশি চালায় তারা। যার প্রত্যেকটিই রিয়েল এস্টেট সংস্থা মার্লিন প্রজেক্টস লিমিটেডের সঙ্গে যুক্ত। এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট -এর অধীনে চলা একটি তদন্তের অংশ হিসেবে। এই মামলায় সংস্থার প্রোমোটার সুশীল মোহতা এবং সাকেত মোহতার নাম জড়িয়েছে। আর্থিক লেনদেনে অভিযুক্তদের সঙ্গে তৃণমূলের বড় নেতাদের যোগসাজশ রয়েছে বলে সূত্র মারফত খবর।
ED সূত্রে জানা গিয়েছে, সুশীল মোহতা, সাকেত মোহতা এবং তাঁদের সহযোগীরা জাল নথি তৈরি করে জমির মালিকানার একটি ভুয়ো কারবার চালাচ্ছিলেন। অভিযোগ, এই জাল নথির মাধ্যমে একাধিক জমি, এমনকী, সরকারি জমিও বেআইনিভাবে দখল করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা নিজেদের বৈধ মালিক হিসেবে দেখিয়ে ওই জমিগুলিতে বড় বড় রিয়েল এস্টেট প্রকল্প শুরু করেন।
এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, এই ভুয়ো মালিকানার নথি দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগ করার লোভ দেখানো হয়। বহু বিনিয়োগকারী ফ্ল্যাট বা প্লট বুকিংয়ের জন্য মোটা টাকা দেন। কিন্তু এর মধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প এখনও অসম্পূর্ণ, ফলে যাঁরা তাঁদের সঞ্চয়ের টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তল্লাশি সময়ে ED আধিকারিকরা সংস্থার অফিস, প্রোমোটারদের বাড়ি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট জায়গা থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে জমির কাগজপত্র, ব্যাঙ্ক লেনদেনের তথ্য এবং বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস। এই সমস্ত নথি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, যাতে টাকার উৎস ও আর্থিক তছরুপের সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা যায়।
এদিকে, রাজ্যে নির্বাচন সামনে থাকায় এই অভিযানে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হবে। এই প্রেক্ষাপটে ED-র দক্ষেপ নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। সূত্রের দাবি, তদন্তে মার্লিন গোষ্ঠীর সঙ্গে কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সরকারি আধিকারিকদের সম্ভাব্য যোগসূত্রের ইঙ্গিত মিলেছে, যদিও এখনও পর্যন্ত কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি।
এই ঘটনায় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে ভোটের আগে এই ED অভিযান রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজক করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।