তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত, আদালতে জানাল ইডি
আই-প্যাক মামলার শুনানি শুরু হতেই হাই কোর্টে মুলতুবি চাইল ইডির আইনজীবী। তিনি জানান, তাঁদের তরফে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়েছে, সেখানেই শুনানি হোক। তৃণমূলের তরফে এই আবেদনের বিরোধিতা করা হয়। শুনানির সম্মতি দেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ।
হাই কোর্টে আই-প্যাক মামলার শুনানি শুরু- কলকাতা,
- 14 Jan 2026,
- (Updated 14 Jan 2026, 4:18 PM IST)
হাইলাইটস
- আই-প্যাক মামলার শুনানি শুরু হতেই হাই কোর্টে মুলতুবি চাইল ইডির আইনজীবী।
- তৃণমূলের তরফে এই আবেদনের বিরোধিতা করা হয়।
- শুনানির সম্মতি দেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ।
আই-প্যাক মামলার শুনানি শুরু হতেই হাই কোর্টে মুলতুবি চাইল ইডির আইনজীবী। তিনি জানান, তাঁদের তরফে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হয়েছে, সেখানেই শুনানি হোক। তৃণমূলের তরফে এই আবেদনের বিরোধিতা করা হয়। শুনানির সম্মতি দেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ।
শুনানিতে কী হচ্ছে?
- কলকাতা হাইকোর্টে তৃণমূলের আবেদন খারিজ, ইডির আবেদন স্থগিত
- ইডির আচরণ অনুপযুক্ত এবং পার্টির উপর গুন্ডামি, অভিযোগ তৃণমূলের
- 'আমি তো বলছি ইডি কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করেনি। যা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় নিজেই। তাই তৃণমূলের উচিত মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে মামলা করা।' বললেন ইডি-র আইনজীবী।
- তৃণমূলের দাবি আদালতে গ্রহণযোগ্য নয়, দাবি ইডির
কলকাতা হাইকোর্টে ইডির তরফে দাবি করা হয়, TMC-র দায়ের করা আবেদনটি রক্ষণাবেক্ষণযোগ্য নয়, কারণ হলফনামা দাখিলকারী ব্যক্তি তল্লাশি হওয়া স্থানগুলিতে ছিলেন না। ইডি জানিয়েছে, আইপ্যাক এবং প্রতীক জৈনের বাসভবনে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। কিন্তু আবেদনকারী সেই তল্লাশির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
- 'ED-র আইনজীবী দাবি করেছেন, তাঁদের সংস্থা কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করেনি। এটা যেন কোর্টের রেকর্ডে থাকে। তাহলেই হবে।' বললেন, তৃণমূলের আইনজীবী।
- ED-র আইনজীবী বলেন, 'আমরা কী বাজেয়াপ্ত করতে পারি বা পারি না তার গাইডলাইন রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের। সেটা নিয়ে সেখানেই বলব।'
- বারবার একই কথা বলবেন না। ED-র আইনজীবীকে বললেন বিচারপতি। তিনি বলেন, 'আপনি একই সাবমিশন বারবার করছেন। আপনার এবার থামা উচিত। অন্যদেরও সুযোগ দিতে হবে। আমরা ধারা ১৭ নিয়ে কাজ করছি না। জানি যে, মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে। বারবার মনে করানোর দরকার নেই।'ED-র আইনজীবীকে বললেন বিচারপতি।
- প্রতিপক্ষ অভিযোগ করেছে অনেক সংবেদনশীল তথ্য নাকি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অথচ ED কোনওকিছু বাজেয়াপ্ত করেনি। তাহলে কেন মিথ্যা দাবি করা হচ্ছে? এই অস্পষ্টতার কারণে প্রতিপক্ষের আবেদন খারিজ করা উচিত : ED
- PMLA অ্যাক্টের উল্লেখ করে ED-র অধিকার কোর্টের কাছে জানালেন ED-র আইনজীবী। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে তল্লাশি অভিযান চালানোর। তাদের বাধা দেওয়া যেতে পারে না?
- রাজনৈতিক ডেটা অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে, দাবি তৃণমূলের: আই-প্যাকে ইডির তল্লাশি নিয়ে তৃণমূল আদালতে জানাল, গোপনীয়তার অধিকারে তাদের সমস্ত রাজনৈতিক তথ্য এবং নির্বাচনী তথ্য সুরক্ষিত রাখার অধিকার রয়েছে।
- PMLA অ্যাক্টের উল্লেখ করে ED-র অধিকার কোর্টের কাছে জানালেন ED-র আইনজীবী। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে তল্লাশি অভিযান চালানোর। তাদের বাধা দেওয়া যেতে পারে না?
- তৃণমূলের তরফে যে বা যারা পিটিশন জমা করেছেন, তাঁরা ভুল তথ্য দিয়েছেন। সেগুলোর সংশোধন প্রয়োজন। না হলে ন্যায়বিচার হবে না। বললেন ইডির আইনজীবী। যিনি পিটিশন দায়ের করেছেন তিনি তো ঘটনাস্থলে উপস্থিতই ছিলেন না। তাহলে কীভাবে জানলেন কী বাজেয়াপ্ত হয়েছে বা হয়নি। এই পিটিশনই অবৈধ। কোর্টে বললেন ইডির আইনজীবী এসভি রাজু।
- আই-প্যাকের আদালতে আসা উচিত, দাবি ইডির : কারও বাড়ি থেকে কারও নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আই-প্যাকের অবশ্যই কলকাতা হাইকোর্টে উপস্থিত থাকা উচিত।
- ইডি-র আইনজীবীর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে অনুপ্রবেশ করে নথি নিয়ে পালিয়েছেন। তাঁর এই কাজ বেআইনি ও অসাংবিধানিক। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকেও মামলার পার্টি করা হোক। তা না হলে, মামলার কোনও যৌক্তিকতা থাকে না।
- তৃণমূলের তরফে এই মন্তব্যের বিরোধিতা করা হয়। তাঁদের আইনজীবীর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় ভোটের তথ্য চুরি করতে।
- ইডির আইনজীবীর অভিযোগ, প্রতীক জৈনও একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি। তাঁর বাড়িতে ইডির তল্লাশি অভিযাবের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও সম্প্রক নেই। এটা জলের মতো পরিষ্কার।
- এদিন আদালত থেকে বেরিয়ে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, "ইডি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টে মামলা বিচারাধীন আছে, তাই মুলতুবি চেয়েছিল। তারা কোনও কিছু বাজেয়াপ্ত করেনি। কোনও কিছু পাওয়া যায়নি এটা সন্দেহজনক। ইডির কাউন্সিল এটাও বলেছে, কোনও কিছু বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে আমি যে ফাইল করেছিলাম সেটা তৃণমূলের হয়ে, মুখ্যমন্ত্রী হয়ে নয়। সুপ্রিম কোর্টে মামাল বিচারাধীন থাকায় মামলা মুলতুবি করতে বলে। ইডি মুলতুবি চেয়েছে। আমরা মামলা করতে চেয়েছি। তাই মামলা মুলতুবি করা হল।"