মিড ডে মিলে থাকবে ডিম ১ অগাস্ট থেকে ইসকন কলকাতার সরকারি স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল খাওয়ানো শুরু করবে। রাজ্য সরকারের থেকে বরাত পাওয়ার পর আগামী মাস থেকে এই পরিষেবা শুরু করতে চলেছে তারা। তবে ইসকনের খাবারে ডিম মিলবে না। বদলে নিরামিষ আহার দেওয়া হবে পড়ুয়াদের। এই নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছিল। অভিযোগ উঠেছিল, পড়ুয়াদের প্রোটিন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এবার সমস্ত বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে বড় ঘোষণা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বুধবার নবান্ন সভাঘর থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, মিড ডে মিলে আলাদা করে ডিম দেওয়া হবে সমস্ত সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের। তিনি এদিন বলেন, '১ অগাস্ট থেকে নিরামিষ, সাত্ত্বিক আহার দেবে ইসকন। তবে ইসকনের খাবার ছাড়াও স্কুলগুলিতে মিড ডে মিলে আলাদা করে ডিম দেওয়া হবে পড়ুয়াদের।' এই ডিম রান্নার জন্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ ইসকনের নিরামিষ খাবারের পাশাপাশিই ডিমও পাবে ছাত্রছাত্রীরা।
শুরুটা হয়েছিল কলকাতা দিয়ে। সমস্ত সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের মিড ডে মিল রাঁধার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইসকনকে। তারপর রথযাত্রার দিন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ঘোষণা করেন এই দায়িত্ব ইসকন পালন করবে গোটা রাজ্যেই। প্রাথমিক ভাবে এই মর্মে রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়ে গিয়েছে বলেও জানান তিনি। শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, 'মিড ডে মিল ইসকনই খাওয়াবে। এই মর্মে সরকারের সঙ্গে তাদের প্রাথমিক চুক্তি হয়ে গিয়েছে। ১ আগস্ট থেকে কলকাতায় চালু করছি। তার পরে নদিয়া, তার পরে রাজ্যের অন্যত্র করব। সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়েরা মিড-ডে মিল খায়। তাদের পৌষ্টিক আহার ইসকন দেবে।'
উল্লেখ্য, বর্তমানে স্কুলশিক্ষা দফতরের অধীনস্থ স্কুলগুলিতে প্রতি সপ্তাহেই মিড ডে মিলে ডিম দেওয়া হয়। মাংসও দেওয়া হয় মাসে কখনও কখনও। এদিকে, ইসকনের কিচেনে তৈরি হয় সম্পূর্ণ নিরামিষ আহার। মেনুতে থাকবে ভাত-ডাল, সমস্ত রকমের পুষ্টিকর সবজি, সোয়াবিন, পনির, রাজমা। প্রত্যেকদিনের প্রোটিন এবং ভিটামিনের মাত্রা বজায় রেখেই মেনু ঠিক করা হবে। ISKCON জানিয়েছে, ডায়েটিশিয়ানকে দিয়ে মিড ডে মিলের মেনু ঠিক করা হবে। যাতে খুঁটিয়ে দেখা হবে প্রোটিনের মাত্রা। প্রতিদিন স্বাদ অনুযায়ী মেনু বদল করা হবে। খিচুড়িও দেওয়া হবে কখনও কখনও। তাতেও পনির মেশানো থাকবে।
কিন্তু প্রোটিন হিসেবে ডিম পাতে পড়বে না কেন, তা নিয়ে ফুঁসে উঠেছিল সমাজের একাংশ। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সোচ্চার হয়েছিল এই মর্মে। বাচ্চা ডিম খেতে ভালোবাসে, ডিম না থাকলে পর্যাপ্ত প্রোটিন থেকে শিশুরা বঞ্চিত হবে, মিড ডে মিলে ডিম দেওয়ার জন্যই ড্রপআউট কমেছে, এমন নানা যুক্তি খাড়া করেছিল তারা। তবে সমস্ত বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে এবার মিড ডে মিলে ইসকনের খাবারের পাশাপাশি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে ডিম দেওয়ার কথা ঘোষণা করে বড় চমক দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।