রিটার্নিং অফিসার বদলReturning Officer Removed Bengal: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল ঘটাল নির্বাচন কমিশন। সোমবার এক নির্দেশিকা জারি করে একধাক্কায় ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে (আরও) সরিয়ে দিল কমিশন। অপসারিত আধিকারিকদের মধ্যে অধিকাংশই মহকুমাশাসক (এসডিও) পদমর্যাদার। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২০১১ সালের ডব্লিউবিসিএস অফিসার সুরজিৎ রায়কে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে কমিশনের এই ‘অপারেশন ক্লিন’ ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর তরজা শুরু হয়েছে।
কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগনায় সবথেকে বেশি ১৩ জন এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ১০ জন করে রিটার্নিং অফিসার বদল করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে কোচবিহারের তুফানগঞ্জ, জলপাইগুড়ি, মালদহ সদর, লালবাগ, ব্যারাকপুর, বিধাননগর, আসানসোল এবং দুর্গাপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মহকুমাগুলি।
তুফানগঞ্জের নতুন এসডিও হয়েছেন শান্তনু কর্মকার এবং জলপাইগুড়িতে নির্মল ঘরামি। এর আগে ১১ জেলার জেলাশাসক, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং এডিজি (আইনশৃঙ্খলা)-র মতো উচ্চপদস্থ কর্তাদের সরিয়েছিল কমিশন। নবান্ন অবশ্য অপসারিত আধিকারিকদের দ্রুত নতুন পদে পুনর্বহাল করেছে, তবে কমিশনের এই অতি-সক্রিয়তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
এদিকে, এই রদবদল নিয়ে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে এক জনস্বার্থ মামলার শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের বেঞ্চে মামলাকারীর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের এক্তিয়ার ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পালটা কমিশনের আইনজীবী আদালতে জানান, পাঁচটি রাজ্যে ভোট হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। কমিশনের এই ‘বদলি-নীতি’ নিয়ে আইনি লড়াই যেমন চলছে, তেমনই ভোটের মুখে নতুন আধিকারিকদের নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।