ফিরহাদ হাকিমমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সতীর্থও এ বার বিদ্রোহের পথে? শুক্রবারই কলকাতার মেয়র পদে ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। আজ অর্থাত্ সোমবার তাঁকে দেখা গেল বিদ্রোহী বিধায়ক সন্দীপন সাহার সঙ্গে। এখানেই শেষ নয়, ফিরহাদ দেখা করলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও।
ফিরহাদ হাকিমও যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে পারেন, তা ভাবা বেশ কঠিন ছিল কিছুদিন আগেও। তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন বা তারও আগে থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যে সব নেতারা প্রতিটি আন্দোলনে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন ফিরহাদ হাকিম। এমনকী ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে বিধানসভা নির্বাচনেও ফিরহাদকেই দায়িত্ব দিয়েছিলেন মমতা। সেই ফিরহাদ হাকিমকেও দেখা যাচ্ছে বিদ্রোহী বিধায়কদের সঙ্গে।
ফিরহাদের সঙ্গে মমতার বাকবিতণ্ডা
কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন ফিরহাদ। সেখানে ফিরহাদকে বেশ খাতির করেন শুভেন্দু। 'কী মেয়র সাহেব?' বলে সম্বোধন করেন শুভেন্দু। ফিরহাদের কথা মন দিয়ে শোনা হয়, এমনকী বিজেপি-র মন্ত্রীরা ফিরহাদের সঙ্গে আলাদা করে সৌজন্য সাক্ষাতও করেন। জানা যায়, ফিরহাদের সঙ্গে এই সখ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাল ভাবে নেননি। এমনকী সেদিন ফিরহাদ নবান্ন থেকে বেরিয়ে কালীঘাটে না গিয়ে সোজা বাড়িতে চলে যান। মমতার সঙ্গে ফিরহাদের ফোনে রীতিমতো বাকবিতণ্ডা হয়।
এরপর কুণাল ঘোষ দাবি করেন, 'কলকাতার মেয়র পদে ইস্তফা দিতে চান ফিরহাদ হাকিম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে অনুমতি দিয়েছেন।' যদিও ফিরহাদ দাবি করেন, তিনি এখনও ইস্তফা দেননি। এরপরেই শুক্রবার ফিরহাদ আনুষ্ঠানিক ভাবে কলকাতার মেয়র পদে ইস্তফা দেন।
দিদির সঙ্গ ত্যাগ করছেন ফিরহাদও?
আজ অর্থাত্ সোমবার সেই ফিরহাদকেই দেখা গেল বিদ্রোহী বিধায়কদের সঙ্গে। প্রশ্ন উঠছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সৈনিকদের মধ্যে অন্যতম ফিরহাদও কি এবার দিদির সঙ্গে ত্যাগ করছেন? তৃণমূল কংগ্রেস অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী যে গোষ্ঠী ছিল, তাতে ছিলেন ফিরহাদ হাকিমও। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে দলের মধ্যেই একাধিক বার মুখ খুলেছিলেন ফিরহাদ। কিন্তু এত কিছুর পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ত্যাগ করেননি তিনি।
'ববিদাকে ফোন করব'
যেদিন ফিরহাদ মেয়র পদে ইস্তফা দিলেন সে দিন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বলেছিলেন, 'ববিদাকে ফোন করব।' বলেছিলেন, 'ববিদার নিজস্ব সিদ্ধান্ত আমি যতটুকু শুনেছি। আমি তখন একটা কাজ করছিলাম। বাকি যারা ছিলেন তাঁরা বললেন, ববিদার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। ববিদার সঙ্গে আমার এর মধ্যে কথা হয়নি। আমার সঙ্গে এর আগে দেখা হয়েছিল। দেখি যদি হয়, ববিদাকে ফোন করব।' ঋতব্রতর ওই কথাতেই বেশ কিছু ইঙ্গিত মিলেছিল। আজ ফিরহাদ খোদ গিয়ে ঋতব্রতর সঙ্গে দেখা করতেই জল্পনা আরও স্পষ্ট হল।