Gautam Adani Hospital : 'রাজ্যকে পুনরায় দাঁড় করাতে আমাকে সাহায্য করুন', গৌতম আদানির কাছে আবেদন শুভেন্দুর

পূর্ব ভারতের উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে এদিনের বক্তব্যে। দেশের প্রধানমন্ত্রী বারবার পূর্ব ভারতের উন্নয়নের উপর জোর দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। সেই প্রসঙ্গেই বাংলায় বড় বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।

Advertisement
'রাজ্যকে পুনরায় দাঁড় করাতে আমাকে সাহায্য করুন', গৌতম আদানির কাছে আবেদন শুভেন্দুর গৌতম আদানি ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
হাইলাইটস
  • এই হাসপাতাল প্রকল্পে মোট ২ হাজার বেড থাকবে
  • তার মধ্যে ১ হাজার বেড অর্থাৎ ৫০ শতাংশ বেড গরিব ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বরাদ্দ থাকবে বলে জানানো হয়েছে

বামেদের ৩৪ বছরের শাসনকালে রাজ্যে একের পর এক শিল্প ও কলকারখানা বন্ধ হয়েছে। আগের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারও গত ১৫ বছরে শিল্প আনেনি পশ্চিমবঙ্গে। ফলে রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থার হাল শোচনীয়। নিউটাউনে হাসপাতালের ভূমিপূজন অনুষ্ঠানে আদানিদের পাশে বসিয়ে বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

বাংলার শিল্প ও কর্মসংস্থানের বেহাল দশা তুলে ধরে রাজ্যকে ফের শিল্পের পথে দাঁড় করানোর বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আদানি পরিবারের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর আবেদন, বাংলায় খনিজ, নদীপথে যোগাযোগ-সহ একাধিক সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বাংলার দিকে নজর দিন, বিনিয়োগ করুন, রাজ্যকে ফের শিল্পের পথে দাঁড় করান। তাঁর অভিযোগ, ৩৪ বছরের বাম শাসনে বহু শিল্প ও কারখানা বন্ধ হয়েছে। পরবর্তী সরকারও ১৫ বছরে বাংলার শিল্পের জন্য তেমন কোনও উদ্যোগ নেয়নি। তাঁর দাবি, শিল্পের বদলে শুধুই ভাতার রাজনীতি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আদানিদের কাছে বাংলায় নতুন শিল্প গড়ে তোলার আবেদন জানান তিনি।

নিউটাউনে এবার তৈরি হতে চলেছে বড়সড় হেলথ কেয়ার সিটি। ৫১ একর জমির উপর এই প্রকল্প গড়ে উঠবে। আদানি গোষ্ঠীর তরফে কয়েক মাসের মধ্যেই কাজ শুরু করার কথা জানানো হয়েছে। সূত্রের খবর, করণ আদানিই এই হাসপাতাল তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এদিন সেই প্রকল্পের ভূমিপুজোও হয়। পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি ও রীতি মেনে ভূমিপুজোর আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন আদানি পরিবারের সদস্যরাও।

এই হাসপাতাল প্রকল্পে মোট ২ হাজার বেড থাকবে। তার মধ্যে ১ হাজার বেড অর্থাৎ ৫০ শতাংশ বেড গরিব ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বরাদ্দ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। বক্তৃতায় এই উদ্যোগকে বড় পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করা হয়। দাবি করা হয়, দেশের কোথাও একইভাবে ২ হাজার বেডের মধ্যে ১ হাজার বেড দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ রাখার এমন নজির নেই।

শুধু হাসপাতাল নয়, গোটা প্রকল্পে একাধিক পরিষেবা থাকবে। সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসক ও রেসিডেন্টদের থাকার ব্যবস্থা, হস্টেল, স্টাফ কোয়ার্টারও তৈরি করা হবে। রোগীদের পরিবারের সদস্যদের থাকার জন্যও আলাদা ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র চিকিৎসার পরিকাঠামো নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ হেলথ কেয়ার সিটি হিসেবেই নিউটাউনের এই প্রকল্পকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

Advertisement

পূর্ব ভারতের উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে এদিনের বক্তব্যে। দেশের প্রধানমন্ত্রী বারবার পূর্ব ভারতের উন্নয়নের উপর জোর দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। সেই প্রসঙ্গেই বাংলায় বড় বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।

এদিন রাইটার্স বিল্ডিংয়ের পুনরুদ্ধার এবং দুর্গাপুজো নিয়েও দুটি মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি নিউটাউনে হেলথ কেয়ার সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনাও সামনে এসেছে। আদানি গোষ্ঠীর তরফে বাংলার খনিজ সম্পদ এবং নদীপথে যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

এদিন আরও জানানো হয়, কল্যাণীতেও বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। বাংলার মাটির ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথাও বলেন আদানি পরিবারের প্রতিনিধি। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে স্বামী বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রসঙ্গ। এই মাটিকে ভক্তি ও ঐতিহ্যের মাটি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

সব মিলিয়ে নিউটাউনের হাসপাতাল প্রকল্পকে ঘিরে বাংলায় বড় বিনিয়োগের বার্তা সামনে এল। একদিকে ৫১ একর জমিতে ২ হাজার বেডের হেলথ কেয়ার সিটি, অন্যদিকে শিল্প ও পরিকাঠামোয় আরও বিনিয়োগের জন্য আদানি গোষ্ঠীর কাছে আবেদন। বাংলার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগ কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর।

 

POST A COMMENT
Advertisement