একাধিক ট্রেন স্টেশনের উদ্বোধন করবেন মোদী ভোটের আগে শনিবার ধর্মতলায় জনসভা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। কলকাতার এই সভা থেকে ঘোষণা ১৮ হাজার ৬৮০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক পথ, রেল পথের ঘোষণা ও একাধিক ট্রেন এবং স্টেশনের উদ্বোধন।
রেল প্রকল্প
সেদিনের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী রাজ্যের রেল নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ঘোষণা করবেন। সেদিনই সূচনা হবে পুরুলিয়া-আনন্দ বিহার ট্রেনের। এই ট্রেন পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং দিল্লি অঞ্চলের সঙ্গে রেল যোগাযোগ আরও জোরদার করবে। এছাড়াও অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্প-এর অধীনে পুনর্নির্মিত ছয়টি রেলস্টেশনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেই স্টেশনগুলো হল, কামাখ্যাগুড়ি রেলওয়ে স্টেশন,আনারা রেলওয়ে স্টেশন, তমলুক রেলওয়ে স্টেশন, হলদিয়া রেলওয়ে স্টেশন, বারাসত রেলওয়ে স্টেশন ও সিউড়ি রেলওয়ে স্টেশন।
সড়কপথ নিয়ে বড় উদ্যোগ
সেদিন প্রধানমন্ত্রী মোদী ৪২০ কিলোমিটারেরও বেশি দৈর্ঘ্যের একাধিক জাতীয় সড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন। এতে বরাদ্দ প্রায় ১৬,৯৯০ কোটি টাকা। উদ্বোধন হতে চলা প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং ১১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক সেকশন।
প্রধানমন্ত্রী আরও কয়েকটি নতুন জাতীয় সড়ক প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন। এর মধ্যে রয়েছে ২৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের খড়্গপুর–মোরগ্রাম অর্থনৈতিক করিডর। এটি খড়্গপুর থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত অর্থনৈতিক করিডরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলার উপর দিয়ে যাবে। এই করিডরের মাধ্যমে খড়্গপুর ও মোরগ্রামের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে, ফলে প্রায় ১২০ কিলোমিটার পথ কমবে এবং যাত্রার সময় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সাশ্রয় হবে।
এছাড়াও এই করিডরটি জাতীয় সড়ক ৬, ১৯, ৩৪ ও ১-র সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে বহু করিডরের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে।
বীরভূমের দুবরাজপুর শহরের যানজট কমাতে জাতীয় সড়ক ১১৪-এ ৫.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের দুবরাজপুর বাইপাস নির্মাণের শিলান্যাসও করবেন। এর ফলে শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যানজট কমবে এবং প্রায় এক ঘণ্টা যাত্রা সময় সাশ্রয় হবে।
বন্দর ও শিপিং প্রকল্প
একাধিক বন্দর ও শিপিং সংক্রান্ত প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন মোদী। তিনি হলদিয়া বার্থ নম্বর ২-এর যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। এর ফলে দ্রুত, দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব কার্গো হ্যান্ডলিং সম্ভব হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কার্গো হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, পূর্ণ রেক কয়লা লোডিং ব্যবস্থা উন্নত হবে, কর্মক্ষমতার সূচক বাড়বে এবং বিপজ্জনক কাজে মানুষের সরাসরি সম্পৃক্ততা কমে নিরাপত্তা বাড়বে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।