বর্ষার আগেই বাংলায় ব্যাপক বৃষ্টি, কোনও কোনও জায়গায় বন্যার সম্ভাবনাও; বড়সড় পূর্বাভাস

আইএমডি জানাচ্ছে, মে মাসে বৃষ্টিপাত দীর্ঘমেয়াদি গড়ের (LPA) ১১০ শতাংশেরও বেশি হতে পারে। ১৯৭১ থেকে ২০২০ সালের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে সারা দেশে গড় বৃষ্টিপাত ৬৪.১ মিমি।

Advertisement
বর্ষার আগেই বাংলায় ব্যাপক বৃষ্টি, কোনও কোনও জায়গায় বন্যার সম্ভাবনাও; বড়সড় পূর্বাভাসবাংলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা
হাইলাইটস
  • প্রাক-বর্ষায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হবে
  • র্বাভাস জারি করল ভারতের মৌসম ভবন বা আইএমডি

প্রাক-বর্ষায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হবে। পূর্বাভাস জারি করল ভারতের মৌসম ভবন বা আইএমডি। সংস্থার মতে, ২০২৬ সালের মে মাসে দেশজুড়ে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হতে পারে। ফলে গরমের তীব্রতা কিছুটা কমাতে সাহায্য করবে। তবে এই বৃষ্টিপাত সমানভাবে সব অঞ্চলে হবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

আইএমডি জানাচ্ছে, মে মাসে বৃষ্টিপাত দীর্ঘমেয়াদি গড়ের (LPA) ১১০ শতাংশেরও বেশি হতে পারে। ১৯৭১ থেকে ২০২০ সালের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে সারা দেশে গড় বৃষ্টিপাত ৬৪.১ মিমি। সেই তুলনায় এই বছরের পূর্বাভাস ইঙ্গিত দিচ্ছে স্বাভাবিকের থেকে বেশি বৃষ্টির দিকে। এর ফলে তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে এবং মাটির আর্দ্রতা ও জলসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তবে সব অঞ্চলে সমান বৃষ্টি হবে না। পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশ, বিশেষ করে পূর্ব-মধ্য অঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় স্বাভাবিকের থেকে কম বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কৃষিকাজ, বিশেষ করে আগাম বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল ফসলের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে।

পশ্চিমবঙ্গে জোর বৃষ্টির সতর্কতা

আইএমডি জানিয়েছে, পাহাড় সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমে আগামী ৫ মে পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সঙ্গে থাকতে পারে ঘণ্টায় ৪০-৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া। কিছু জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে জল জমা বা বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

এছাড়াও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় একই ধরনের আবহাওয়া দেখা যেতে পারে। যার জেরে পরিবহণ, দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং কৃষিক্ষেত্রে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

দেশের অন্যান্য অংশেও প্রভাব

পশ্চিম হিমালয় অঞ্চল, উত্তর-পশ্চিম ভারতের সমভূমি এবং সংলগ্ন মধ্য ভারতে ৩ থেকে ৬ মে পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে বজ্রঝড় ও দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। একই সময়ে পূর্ব ভারত ও পূর্ব উপকূলবর্তী রাজ্যগুলিতেও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বসন্ত থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর রূপান্তরের সময় এ ধরনের আবহাওয়া স্বাভাবিক হলেও, এ বছর বৃষ্টির পরিমাণ ও তীব্রতা তুলনামূলক বেশি হতে পারে। ঘন ঘন বজ্রঝড় ও দমকা হাওয়া পরিকাঠামো, কৃষি এবং বাইরে কাজকর্মে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

Advertisement

সতর্কবার্তা

আইএমডি রাজ্য প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে নিয়মিত আবহাওয়ার আপডেট অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতো ঝড়প্রবণ অঞ্চলে সতর্ক থাকা জরুরি, কারণ স্বল্প সময়ের মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাত শহরে জল জমা ও গ্রামীণ এলাকায় ফসলের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

POST A COMMENT
Advertisement