ইলিশে নজর মোদী সরকারেরভাতের সঙ্গে মাছ না হলে বাঙালির ঠিক চলে না। আর সেই মাছ যদি হয় ইলিশ, তাহলে তো কথাই নেই। সেই ইলিশ মাছ নিয়েই এবার বড় পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যে এসে তারই আভাস দিয়ে গেলেন কেন্দ্রীয় মৎস্যমন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিং।
রাজ্যের মৎস্য খাতের সার্বিক বিকাশ
সোমবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন কেন্দ্রের মৎস্য মন্ত্রকের মন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিং। সেই বৈঠকরে পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, বাংলায় মৎস্যশিল্পের উন্নতিতে প্রায় ৯ কোটি টাকা দিচ্ছে কেন্দ্র। দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা ওই বৈঠকে রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকা, সুন্দরবন, দার্জিলিং-কালিম্পঙের কোল্ড ওয়াটার ফিশিং এবং খরাপ্রবণ বাঁকুড়া-পুরুলিয়ায় নতুন প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি হয়। পাশাপাশি বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মতো শুষ্ক জেলাগুলিতে মৎস্যচাষ ও জল সংরক্ষণের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ছ’টি ‘অমৃত সরোবর’ তৈরির অনুমোদন দিয়েছে।
বাংলায় বিপুল সম্ভাবনা
পশ্চিমবঙ্গের মৎস্য ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। প্রসঙ্গত, মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজ্য। বর্তমান প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার মৎস্যপণ্য রফতানিকে আগামী দিনে ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকায় বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মৎস্যমন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিং। বিশেষ করে সুন্দরবন এলাকায় বাগদা চিংড়ি, কাঁকড়া, ইলিশ এবং বিভিন্ন ধরনের বাহারি মাছকে কেন্দ্র করে রফতানি বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে ভারত সরকার ইলিশ উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
ইলিশ নিয়ে কেন্দ্রের ভাবনা
সম্প্রতি গুজরাত, অসম এবং বাংলা থেকে ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে রফতানি করেছে ভারত। এই উদাহরণ তুলে ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বালন, ‘আগে সকলে বাংলাদেশের ইলিশের কথা বলত। এখন উলটে এখান থেকেই ইলিশ যাচ্ছে! এর থেকেই দেশের অগ্রগতি কেমন হয়েছে সেটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে।’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য, ‘এত দিন আমরা শুনে এসেছি, বাংলাদেশ থেকে এ পারে ইলিশ আসে। ও দেশে আমরা ইলিশ পাঠিয়েছি, এটা কি আগে শোনা গিয়েছে? ইলিশ নিয়ে আমাদের পৃথক পরিকল্পনা রয়েছে।’
আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়ার বাজারে নজর ভারতের
ইলিশ মাছ রফতানিতে সুনাম রয়েছে বাংলাদেশের। কিন্তু সেই দেশেই এই প্রথম ইলিশ রফতানি করেছে ভারত। পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল সীমান্ত বন্দর দিয়ে গত দুই মাসে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে রফতানি করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানো হতে পারে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা। এই মাছের সিংহভাগই গুজরাতের। বাংলাদেশে পাঠানো এই ইলিশে প্রচুর পরিমাণ ডিম রয়েছে, যার ফলে চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। এই ডিম প্রক্রিয়াজাত করে বাংলাদেশ থেকে পুনরায় অন্য দেশে রফতানি করা হচ্ছে। এ ছাড়া কিছু মাছ দিয়ে শুঁটকি ও নোনা ইলিশ তৈরি হচ্ছে। এদিকে এবার বাংলাদেশে তেমন ইলিশ উৎপাদন হয়নি। ফলে আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়ার বাজারের দরজা খোলা ভারতের সামনে। শুধু তাই নয়, মালয়েশিয়া, আমেরিকা, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ-সহ যে সব জায়গায় বাংলাদেশিরা থাকেন, সেখানেও গুজরাতের ইলিশ রফতানি করার সুযোগ আছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সেই পরিস্থিতিতে বিদেশে ইলিশের বাজারে জাঁকিয়ে বসার সুবর্ণ সুযোগ আছে ভারতের কাছে।