
ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগদুর্গাপুজোতেও কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে তৃণমূল সরকারের আমলে! সে সময়ের মন্ত্রী, যদিও তাঁর কাজ ছিল মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মঞ্চে গান গাওয়া, সেই ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাড়ি সহ ১৫টি জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, UNESCO-র নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোয় ভুয়ো পাস বেচে কোটি কোটি টাকা নিয়েছেন massArt নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে।
ঠিক কী ভাবে দুর্নীতি হয়েছে?
অভিযোগ, কলকাতার দুর্গাপুজো UNESCO হেরিটেজ স্বীকৃতি পাওয়ার পরেই ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেন একটি সংস্থা তৈরি করেন। ২০২২ সাল নাগাদ সম্ভবত। এদের কাজ ছিল, প্রি-পুজো টিকিট বিক্রি করা। অর্থাত্ কলকাতার প্রায় ২৪টি বড় ও নামী পুজো বাছা হত। তারপর একটি মিউজিয়াম বা প্রদর্শনীতে থিম ও কারুকার্য দেখানো হত, যাঁরা টিকিট কাটতেন। ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রীর ওই সংস্থা দাবি করত, এই সব নাকি UNESCO-র উদ্যোগে যৌথ ভাবে হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ ভুয়ো দাবি বলে অভিযোগ।

বস্তুত, অভিযোগকারী জানাচ্ছেন, UNESCO এই সবের সঙ্গে কখনওই যুক্ত ছিল না। UNESCO-র নাম ভাঁড়িয়ে মানুষকে বোকা বানিয়ে মোটা দামে টিকিট বিক্রি করা হত। কোটি কোটি টাকার কারবার চলত। থানায় আগেই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল এই ঘটনায়।
কত টাকার লেনদেন হয়েছে?
থানায় অভিযোগে দাবি করা হয়েছি, ৩ বছরে কম করে ৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। যে পুজোগুলিকে বাছা হত, কেবল তারাই বড় বড় স্পনসর এবং পুরস্কার পেত। টিকিট বিক্রি ও স্পনসরশিপের বিপুল টাকার সামান্য একটু অংশ পেত পুজো ক্লাবগুলি, আর সিংহভাগ টাকাই চলে যেত ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রীর পকেটে। মন্ত্রী হওয়ার সুবাদে ভীতি ও প্রভাবশালী চাপের কারণে মুখ খুলতে না পারলেও, রাজ্যে পালাবদলের পরেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
প্রতারণার শিকার হয়ে জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি বউবাজার থানায় প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং বা আর্থিক তছরুপের মামলা দায়ের করেন গত জুন মাসে। যদিও সেই সময় ইন্দ্রনীল সেন অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
কলকাতার ১৫টি জায়গায় অভিযান ED-র
আজ অর্থাত্ মঙ্গলবার ED তল্লাশি ও বাজেয়াপ্ত অভিযান চালাচ্ছে। দুর্গাপুজোর ‘Preview Show’ আয়োজনের ক্ষেত্রে MassArt (Mahanirban Road Mass Art) Society-এর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে কলকাতার ১৫টি জায়গায় এই অভিযান চলছে। ED-র অভিযোগ, MassArt নিজেকে UNESCO-র পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত সংস্থা হিসেবে দাবি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।