ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৫ বছরের মুখ্যমন্ত্রী। একটা নির্বাচনে পরাজয় আর তারপরই রাতারাতি পায়ের তলা থেকে জমি সড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে দাঁড়িয়েই জয়ী হন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। দলের হেভিওয়েট নেতারা যখন ধরাশায়ী তখন তৃণমূলের মুখরক্ষা করেছিলেন এই দুই তরুণ নেতা। আবার তাঁরাই এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সবচেয়ে বড় 'বিশ্বাসঘাতক'। ভরা নবান্নে, সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফাঁস করেন, কীভাবে ঋতব্রত ও সন্দীপন দলেরই 'জাল সই' কাণ্ডের বিরোধিতা করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে দুই জয়ী বিধায়ককে বহিষ্কার করেছিলেন মমতা। তবে ভাগ্যের পরিহাসে সেই বহিষ্কৃত দুই বিধায়কই কেড়ে নিলেন তাঁর সর্বস্ব। এখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই তৈরি হয়েছে তৃণমূলের পরিষদীয় দল। আর মমতা, পদহীন। কিন্তু তৃণমূল থেক বহিষ্কৃত হয়েও কি তৃণমূলেরই পরিষদীয় দলের নেতা হওয়া সম্ভব ঋতব্রতর পক্ষে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই।
bangla.aajtak.in-এ গোটা পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে দল, সেটাই তো তাঁর কাছে আর নেই। তৃণমূল দলটাই এখন ঋতব্রতদের হয়ে গিয়েছে।' একইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, 'সংবিধানের অ্যান্টি ডিফেকশন ল অর্থাৎ দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, মূল দল হিসেবে ঋতব্রতরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে গিয়েছে এখন।'
বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর আরও ব্যাখ্যা, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন দলের কেউ নন। রাজ্য বিধানসভার বিধায়কদের যে পরিষদীয় দল, সেখানকার উনি কেউ নন। ঋতব্রতরা সংখ্যা প্রমাণ করে দিয়েছেন, অর্থাৎ ওঁরাই এখন তৃণমূল কংগ্রেস। এই মাপকাঠির উপর ভিত্তি করেই নির্বাচন কমিশন এখন সিদ্ধান্ত নেবে।'
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ৬০ বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা মনোনীত হয়েছেন। গত ১০ দিন ধরে গোপনে রাজ্যের নানা প্রান্তে দলীয় বিধায়কদের একাধিক বৈঠক হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। আর এই গোটা কর্মকাণ্ডের নেতৃত্বে ছিলেন ঋতব্রত ও সন্দীপন। ফলত ৬০ জনের সমর্থন তাঁদের পক্ষেই গিয়েছে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে দলনেতা হিসেবে উল্লেখ করে স্পিকারকে পাঠানো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠির আর কোনও গুরুত্বই রইল না।