Kolkata ED raid: ৩ ED অফিসার vs বিরাট পুলিশ বাহিনী, I-PAC এর প্রতীকের বাড়িতে ঠিক কী ঘটেছিল?

বৃহস্পতিবার ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাকের দফতরে ইডি অভিযানের সময় ব্যাপক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) ওই অভিযানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন, এমনই দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থার সূত্র।

Advertisement
৩ ED অফিসার vs বিরাট পুলিশ বাহিনী, I-PAC এর প্রতীকের বাড়িতে ঠিক কী ঘটেছিল?
হাইলাইটস
  • বৃহস্পতিবার ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাকের দফতরে ইডি অভিযানের সময় ব্যাপক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
  • এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) ওই অভিযানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন, এমনই দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থার সূত্র।

বৃহস্পতিবার ভোটকুশলী সংস্থা আই-প্যাকের দফতরে ইডি অভিযানের সময় ব্যাপক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) ওই অভিযানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন, এমনই দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থার সূত্র।

অভিযোগ, অর্থপাচার সংক্রান্ত তদন্তে আই-প্যাকের দফতরে তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত হন। সেই সময় তিনি আই-প্যাকের এক শীর্ষকর্তা তথা সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের মোবাইল নিয়ে নেন। সূত্রের দাবি, তল্লাশি চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন যাতে নথিভুক্ত না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

ইডির আরও অভিযোগ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজিপি-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। তাঁদের তরফে ইডি আধিকারিকদের পঞ্চনামা বা তল্লাশি সংক্রান্ত নথিতে কোনও ‘উদ্ধার’ দেখাতে নিষেধ করা হয়। এমনকি, যদি কোনও কিছু উদ্ধার দেখানো হয়, তাহলে ইডি অফিসারদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে গ্রেফতারের হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি।

ইডি সূত্র জানাচ্ছে, গোটা পরিস্থিতি কার্যত শক্তি প্রদর্শনে পরিণত হয়। মাত্র তিনজন ইডি আধিকারিকের মুখোমুখি ছিলেন কয়েক ডজন পুলিশকর্মী এবং মুখ্যমন্ত্রীর জন্য মোতায়েন করা জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তারক্ষীরা। সংস্থার অভিযোগ, আধিকারিকদের ভয় দেখানো হয়। এবং সরকারি নথিতে প্রকৃত ঘটনা উল্লেখ না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়।

এছাড়াও ইডির দাবি, তল্লাশির সময় উপস্থিত স্বাধীন সাক্ষীদেরও পুলিশ ও মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তারক্ষীরা হেনস্থা ও ভয় দেখান, যাতে তাঁরা কোনও বক্তব্য না দেন।

তবে এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ইডি অর্থপাচারের তদন্তের নামে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল, অভ্যন্তরীণ নথি ও হার্ড ডিস্ক বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করছিল, যার সঙ্গে কোনও আর্থিক অনিয়মের যোগ নেই। মমতার দাবি, দলীয় গোপন তথ্য রক্ষা করতেই তিনি হস্তক্ষেপ করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী এই অভিযানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অসাংবিধানিক বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, ইডি আসলে তৃণমূলের নির্বাচনী প্রস্তুতিতে আঘাত হানতেই এই পদক্ষেপ করেছে। তাঁর কথায়, 'আমাদের দলের নথি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর সঙ্গে ইডির মামলার কোনও সম্পর্ক নেই।'

Advertisement

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য-রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। একদিকে কেন্দ্রের তদন্তকারী সংস্থার গুরুতর অভিযোগ, অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া পাল্টা-সব মিলিয়ে আই-প্যাক অভিযানের এই অধ্যায় বাংলার রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

 

POST A COMMENT
Advertisement