Kunal Ghosh : 'আমি যে কোনও সময় খুন হয়ে যেতে পারি, শুভেন্দু কি আমার ডেডবডি দেখতে চান?', 'আতঙ্কিত' কুণাল

কুণাল ঘোষের দাবি, গত চার মাস ধরে তাঁর উপর হামলার চেষ্টা চলছে। আজ নারকেলডাঙা থানায় যাওয়ার কারণও নিরাপত্তাজনিত বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, থানায় তিনি কোনও অভিযোগ জানাতে আসেননি, বরং নিরাপত্তার জন্য গাড়ি নিয়ে সেখানে ঢুকেছেন।

Advertisement
'আমি যে কোনও সময় খুন হয়ে যেতে পারি, শুভেন্দু কি আমার ডেডবডি দেখতে চান?', 'আতঙ্কিত' কুণাল কুণাল ঘোষ
হাইলাইটস
  • কুণালের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে দেওয়া কলকাতা পুলিশের নিরাপত্তারক্ষী পরিস্থিতির চাপে রিভলবার বের করতে বাধ্য হন
  • তাঁর অভিযোগ, গাড়ির কাচ ভেঙে তাঁকে বের করে প্রাণে মারার চেষ্টা হয়েছিল

‘আমি যে কোনও সময় খুন হয়ে যেতে পারি। শুভেন্দু অধিকারী কি আমার ডেডবডি দেখতে চান?’ পরপর হামলার অভিযোগ তুলে এবার এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, গতকাল, পরশু এবং আজ, পরপর তিন দিন তাঁকে নিশানা করে হামলার চেষ্টা হয়েছে। আজ বেলেঘাটায় তাঁর গাড়ি ঘিরে হামলার অভিযোগের পর নারকেলডাঙা থানায় গিয়ে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন কুণাল।

কুণালের দাবি, 'অভিযোগ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই নিয়ে চারবার আক্রমণ। পরপর তিন দিন। গতকাল, পরশু এবং আজ। ওরা কি আমার ডেডবডি দেখতে চায়?' তাঁর অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁর গাড়ির কলার ধরে টানছিল এবং গাড়িতে ঝুলছিল। পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

কুণালের আরও অভিযোগ, 'কলকাতার বুকে জঙ্গলরাজ চলছে।' তাঁর দাবি, দক্ষিণী সিনেমার কায়দায় তাঁর উপর হামলা হয়েছে এবং এর জন্য বিজেপি দায়ী। একইসঙ্গে কয়েকজনের নাম থানায় জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তাঁর বক্তব্য, 'এভাবে চলতে পারে না। ওরা তো আমার ডেডবডি দেখতে চেয়েছে। আমি শুধু নিজেকে নিয়ে চিন্তিত নই। আমার সঙ্গে তো সহকর্মীরাও থাকে। তাঁদেরও কিছু হয়ে যেতে পারে।'

‘চার মাস ধরে আমার উপর আক্রমণ হচ্ছে’

কুণাল ঘোষের দাবি, গত চার মাস ধরে তাঁর উপর হামলার চেষ্টা চলছে। আজ নারকেলডাঙা থানায় যাওয়ার কারণও নিরাপত্তাজনিত বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, থানায় তিনি কোনও অভিযোগ জানাতে আসেননি, বরং নিরাপত্তার জন্য গাড়ি নিয়ে সেখানে ঢুকেছেন। তাঁর দাবি, গাড়িটি দেখলেই বোঝা যাবে কেন তাঁকে থানায় ঢুকতে হয়েছে।

কুণালের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে দেওয়া কলকাতা পুলিশের নিরাপত্তারক্ষী পরিস্থিতির চাপে রিভলবার বের করতে বাধ্য হন। তাঁর অভিযোগ, গাড়ির কাচ ভেঙে তাঁকে বের করে প্রাণে মারার চেষ্টা হয়েছিল। এরপরই শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি নিশানা করে কুণালের প্রশ্ন, 'শুভেন্দু অধিকারী কি আমার ডেডবডি চান? সেটা দেখলে শান্ত হবেন?'

Advertisement

‘মুখ ঢেকে বাইক বাহিনী ফলো করছে’

কুণাল আরও দাবি করেন, কলকাতার রাস্তায় পিছন থেকে একাধিক বাইক তাঁকে অনুসরণ করছিল। বাইক আরোহীদের মুখ ঢাকা ছিল বলেও অভিযোগ তাঁর। তাঁর দাবি, রিভলবার হাতে নিয়ে তাঁকে তাড়া করা হয় এবং কয়েকটি বাইক সামনে এসে তাঁর গাড়ির রাস্তা আটকে দেয়।

কুণালের অভিযোগ, 'দুবার এমন করা হল। একবার ফুলবাগানের এক গলিতে এবং একবার হাসপাতালের কাছে।'

তিনি আরও জানান, গতকাল রাতে বেলেঘাটা থানার ওসিকে তিনি জানিয়েছিলেন যে তিনি আসছেন। তারপরও কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কুণাল।

‘বিজেপি দায়ী’, পাল্টা অস্বীকার গেরুয়া শিবিরের

গতকাল উত্তরপাড়ায় তাঁর গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁরা যুক্ত নন বলে দাবি করা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ তুলে কুণালের বক্তব্য, 'গতকাল তো আমি বিজেপির মণ্ডল সভাপতির ছবি পোস্ট করেছিলাম। তারপরও কীভাবে ওরা অস্বীকার করতে পারে?'

তবে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ ইতিমধ্যেই বেলেঘাটার ঘটনার সঙ্গে বিজেপির যোগ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এই পরিস্থিতিতে কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কুণাল। তাঁর অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা তাঁর বাড়ির সামনেও ছিল। এমনকী তিনি বাড়ি থেকে বেরোলেই তাঁকে গুলি করে মেরে ফেলার আশঙ্কা করছেন বলে জানিয়েছেন।

সবশেষে কুণালের বক্তব্য, 'আমি জানি না এটাই আমার শেষ বিবৃতি কি না। গতকালও খুনের চেষ্টা হয়েছে। আজও তাই। এগুলো তথ্য।'

তাঁর এই অভিযোগের পর পুলিশ কী পদক্ষেপ করে এবং হামলার পিছনে কারা রয়েছে, তা এখন তদন্তের বিষয়। হামলার অভিযোগের সত্যতা এবং এর সঙ্গে কারা যুক্ত, তা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।

POST A COMMENT
Advertisement