ফাইল ছবিরাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে টলিপাড়ার একাংশ তারকার অবস্থান ও মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার সেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন ইমন চক্রবর্তী। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর প্রশংসায় সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতেই তাঁকে ঘিরে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে, তাহলে কি রাজনৈতিক অবস্থান বদলাচ্ছেন ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানপ্রাপ্ত এই গায়িকা?
সম্প্রতি শমীক ভট্টাচার্যের একটি ভাষণের ভিডিও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ওয়ালে শেয়ার করেন ইমন। সেই পোস্টে তিনি লেখেন, 'এবার বলো আমি বিজেপি! কিন্তু আগে কথাগুলো শুনে নাও। এই মানুষটার সবচেয়ে বড় ভক্ত আম... এখন থেকে নয়, বরাবর।'
এই পোস্ট সামনে আসতেই নেটমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা। কারণ, অতীতে রাজ্যের শাসকদলের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন ইমন। এমনকি ভবানীপুর উপনির্বাচনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র প্রচারমঞ্চে দাঁড়িয়ে গান গেয়ে ভোটের প্রচারও করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ গেয়েও আলোচনায় এসেছিলেন।
bangla.aajtak.in-কে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ইমন বলেন, 'আমি কখনও তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ছিলাম না, আমি সরকার ঘনিষ্ঠ ছিলাম। একজন শিল্পী হিসেবে গান গেয়েই আমি জীবিকা নির্বাহ করি। তাই যে রাজনৈতিক দল অনুষ্ঠান বা কাজের জন্য পারিশ্রমিক দেবে, তাঁদের জন্যই গান গাইব। তৃণমূলের পাঁচালিও টাকার জন্য গেয়েছিলাম।' ইমনের কথায়, 'আমি একজন শিল্পী। গান গেয়েই রোজগার করি। যে পার্টি টাকা দেবে, তাঁদের হয়েই পাঁচালি গাইব।'
এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যদি শমীক ভট্টাচার্যকে তিনি 'বরাবর' পছন্দ করে থাকেন, তাহলে এতদিন প্রকাশ্যে সেই প্রশংসা শোনা যায়নি কেন? কেউ আবার সরাসরি তাঁকে ‘সুবিধাবাদী’ বা ‘পাল্টিবাজ’ বলেও কটাক্ষ করেছেন। কেউ লিখেছেন, 'এতদিন উন্নয়নের পাঁচালি, এখন আবার শমীক বন্দনা?' আবার কারও মন্তব্য, 'সময় বুঝে ডিগবাজি খেলেন নাকি?'
সব মিলিয়ে, রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে শিল্পীমহলের অবস্থান ও মত পরিবর্তন নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, ইমনের সাম্প্রতিক পোস্ট সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল বলেই মত রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলের একাংশের।