এক সপ্তাহেই ডিমের দাম অনেকটা বাড়ল, চিকেন কত? সস্তার প্রোটিনও যেভাবে মহার্ঘ হচ্ছে...

কলকাতায় ডিম ও মুরগির মাংসের দাম হু হু করে বাড়ছে। সাধারণ মানুষের কাছে সস্তায় প্রোটিনের অন্যতম উৎস হিসেবে পরিচিত এই দুই খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে নাজেহাল ক্রেতারা। ব্যবসায়ীদের দাবি, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং পোল্ট্রি খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।

Advertisement
এক সপ্তাহেই ডিমের দাম অনেকটা বাড়ল, চিকেন কত? সস্তার প্রোটিনও যেভাবে মহার্ঘ হচ্ছে...
হাইলাইটস
  • কলকাতায় ডিম ও মুরগির মাংসের দাম হু হু করে বাড়ছে।
  • সাধারণ মানুষের কাছে সস্তায় প্রোটিনের অন্যতম উৎস হিসেবে পরিচিত এই দুই খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে নাজেহাল ক্রেতারা।

কলকাতায় ডিম ও মুরগির মাংসের দাম হু হু করে বাড়ছে। সাধারণ মানুষের কাছে সস্তায় প্রোটিনের অন্যতম উৎস হিসেবে পরিচিত এই দুই খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে নাজেহাল ক্রেতারা। ব্যবসায়ীদের দাবি, দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং পোল্ট্রি খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।

শহরের বিভিন্ন বাজারে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক ডজন ডিমের দাম প্রায় ৬ টাকা বেড়েছে। একই সময়ে পোল্ট্রি মুরগির মাংসের দামও প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

কসবার এক ব্যবসায়ী জানান, এক সপ্তাহ আগেও যেখানে এক ডজন ডিম ৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন সেই দাম বেড়ে হয়েছে ৭৮ টাকা। নিউ মার্কেটে ৩০টি ডিমের একটি ক্রেট শুক্রবার বিক্রি হয়েছে ২১০ টাকায়, যা সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ১৮০ টাকা।

কালীঘাট বাজারেও একই চিত্র দেখা গিয়েছে। সেখানে একটি ডিমের দাম ৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বেড়ে ৭ টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি আস্ত মুরগির দাম প্রতি কেজি ১৮০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২০০ টাকা। প্রক্রিয়াজাত বা ছাড়ানো মুরগির দামও ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০ টাকায় পৌঁছেছে।

হালতু, ল্যান্সডাউন-সহ শহরের বিভিন্ন বাজারেও পোল্ট্রি মাংসের দাম চড়া রয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি অনেককেই বিস্মিত করেছে। কারণ সাধারণত গ্রীষ্মকালে বিয়ে বা বড় অনুষ্ঠান কম থাকায় মুরগির চাহিদা হ্রাস পায় এবং দামও কিছুটা কমে। কিন্তু এবার তার উল্টো ছবি দেখা যাচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ পোল্ট্রি ফেডারেশনের মতে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াই অন্যতম কারণ। তাঁর দাবি, ডিজেল ও পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে ডিম ও মুরগির বাজারে। অত্যধিক গরমের কারণে মুরগিরা স্বাভাবিকের তুলনায় কম খাবার খাচ্ছে। ফলে ডিম উৎপাদন কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তাপপ্রবাহের কারণে অনেক মুরগির মৃত্যুও হচ্ছে।

পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, দীর্ঘদিনের তীব্র গরম উৎপাদনে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এর পাশাপাশি বেড়েছে পোল্ট্রি খাদ্যের খরচও। বিশেষ করে সয়াবিন ও ভুট্টার দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

Advertisement

এদিকে, মাত্র পনেরো দিনের মধ্যে সয়াবিনের দাম প্রতি কেজি ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি মুরগির বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড সাপ্লিমেন্টের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়ায় তার প্রভাব সরাসরি পড়ছে খুচরো বাজারে।

ব্যবসায়ীদের মতে, আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি এবং খাদ্যশস্যের দাম স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত ডিম ও মুরগির মাংসের দামে স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম।

 

POST A COMMENT
Advertisement