
দুর্গাপুজো টিকিট কেলেঙ্কারিরাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের পাহাড়। সরকারি অনুষ্ঠানে শিল্পীদের থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তো আছেই। এবার দুর্গাপুজো নিয়েও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠল ইন্দ্রনীলের স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধে। স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২২ সাল থেকে কলকাতার নামী দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো টিকিট বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন দুজনে। ইতিমধ্যেই জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
দুর্গাপুজোয় টিকিট কেলেঙ্কারি ঠিক কী রকম?
ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, UNESCO-র নাম ও লোগো ব্যবহার করে ২০২২ সাল থেকে টানা প্রতিবছর দুর্গাপুজোয় বেআইনি টিকিট দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকা রোজগার করেছেন দুজনে।কলকাতায় দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং প্রিভিলেজড প্রি-পুজো এন্ট্রি টিকিট বিক্রির চক্র চালাতেন এঁরা। ইন্দ্রনীল ও মধুছন্দা মাস আর্ট নামে একটি সংস্থা খোলেছিলেন। ওই সংস্থা কলকাতার বড় পুজোগুলির প্রিভিউ টিকিট ও প্রিভিলেজড প্রি পুজো এন্ট্রি নাম দিয়ে টিকিট বিক্রি করতেন চড়া দামে। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন ছাড়াও এই অভিযোগে নাম রয়েছে ধ্রুবজ্যোতি বসু (শুভ), সায়ন্তন মৈত্র এবং রাজন চট্টোপাধ্যায় নামে আরও তিন ব্যক্তির।

UNESCO-র নাম ও লোগো ব্যবহার করে চড়াদামে টিকিট বিক্রি চলত
ওই সব টিকিটের টাকা পুজোর কয়েক মাস আগে থেকেই মাস আর্ট নামে ওই সংস্থার মাধ্যমে বেআইনি ভাবে বিক্রি করা হত। UNESCO-র এই ধরনের কোনও নিয়মই নেই। অথচ টিকিটে UNESCO-র নাম ও লোগো ব্যবহার করে চড়াদামে টিকিট বিক্রি চলত। কিছু টিকিট দেশ, বিদেশজুড়ে ৪ হাজার টাকায় পর্যন্ত বিক্রি করতেন বলে অভিযোগ। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, আন্তর্জাতিক স্তরে এই দুর্নীতি চলত। তাদের দাবি ইউনেস্কো, কোনদিনই বাণিজ্যিক চুক্তি করেনি। ইউনেস্কো থেকে করা মেইল এবং সমস্ত আইনি নথিপত্র জমা হয়েছে ।
সঙ্গীতের দুনিয়াতেও ব্যাপক দুর্নীতি
রাজ্যে পালাবদলের পরে ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন একের পর এক শিল্পী। সরকারি অনুষ্ঠানে গানের সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার বদলে মোটা টাকা কাটমানি নিতেন বলে অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে। ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগে সরব হয়েছেন চিকিৎসক-গায়ক উৎসব দাস। রবীন্দ্র সদনে রবীন্দ্র সঙ্গীতে A গ্রেড পাওয়া গায়ক bangla.aajtak.in -কে জানান, 'আমি একজন A গ্রেড পাওয়া গায়ক। কিন্তু আমাকে অনুষ্ঠানে ডাকা হত না। নির্দিষ্ট কিছু ১০-১২ জন ঘনিষ্ঠ গায়ককেই যাবতীয় সরকারি অনুষ্ঠান, মেলার উৎসব অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার সুযোগ দেওয়া হত।'