Mamata Banerjee-Indranil Sen : মমতার অ্য়াকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছিল ইন্দ্রনীলের সংস্থা, বিরাট দাবি ED-র

ED-র দাবি, MassArt-এর মাধ্যমে ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। অভিযোগ, এই অর্থ সংগ্রহের সময় MassArt-কে UNESCO-র পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত বা অনুমোদিত সংস্থা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।

Advertisement
মমতার অ্য়াকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছিল ইন্দ্রনীলের সংস্থা, বিরাট দাবি ED-র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ইন্দ্রনীল সেন
হাইলাইটস
  • বুধবার MassArt-এর তদন্তে প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে ইডি জিজ্ঞাসাবাদ করে ইন্দ্রনীলকে
  • তার এক দিন আগেই কলকাতার ১৫টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল তারা

প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা থেকে ৩০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে। MassArt-এর আর্থিক লেনদেনের তদন্তে নেমে এমনই দাবি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। এই নিয়ে বিবৃতিও দিয়েছে ওই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। 

বুধবার MassArt-এর তদন্তে প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে ইডি জিজ্ঞাসাবাদ করে ইন্দ্রনীলকে। তার এক দিন আগেই কলকাতার ১৫টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল তারা। ED-র দাবি, ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর মালিকানাধীন অক্টেভ রেকর্ডসের অ্যাকাউন্টে মন্ত্রী থাকাকালীন ৩.৮ কোটি টাকার বেশি নগদ জমা পড়েছিল। ওই সংস্থার তরফে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছিল। যদিও  ইন্দ্রনীল সেনের দাবি, ওই টাকা রয়্যালটি হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। 

ED এই তদন্তের প্রেক্ষাপট বউবাজার থানায় দায়ের হওয়া একটি FIR-এর ভিত্তিতে। অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর একাধিক ধারায় FIR করে পুলিশ। অভিযোগে ইন্দ্রনীল সেন ছাড়াও তাঁর সংস্থা MassArt-এর সভাপতি মধুচ্ছন্দা সেন, সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি বসু, সহ-সভাপতি সায়ন্তন মৈত্র এবং কোষাধ্যক্ষ রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে।

ED-র দাবি, MassArt-এর মাধ্যমে ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। অভিযোগ, এই অর্থ সংগ্রহের সময় MassArt-কে UNESCO-র পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত বা অনুমোদিত সংস্থা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।  UNESCO-র নাম, পরিচিতি এবং লোগো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করা হয়েছিল। 

২৪টি পুজোর প্রিভিউ শো

ED-র তদন্ত অনুযায়ী, MassArt কলকাতার ২৪টি নির্বাচিত দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলকে ঘিরে প্রিভিউ শো আয়োজন করেছিল। সাধারণ মানুষের জন্য ওই শোগুলির টিকিট ১,৭৪৯ টাকা থেকে ৫,৪৯৯ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়েছি। শুধু ২০২৩ এবং ২০২৪ সালেই এক লক্ষের বেশি এমন টিকিট বিক্রি হয়েছিল টিকিট বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে নগদে তুলে নেওয়া হয়েছিল। কিছু অর্থ বিবিধ খরচ দেখিয়েও হিসেব থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। 

Advertisement

তদন্তে নেমে ইন্দ্রনীল সেন মন্ত্রী থাকাকালীন পর্যটন ও সংস্কৃতি দফতরের একাধিক টেন্ডারের বিষয়টিও নজরে এসেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের। ওই সময় ৮৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের একাধিক টেন্ডার ধ্রুবজ্যোতি বসু এবং দীপেশ রায়ের মালিকানাধীন সংস্থাগুলিকে দেওয়া হয়েছিল। ED-র দাবি, ওই দুই ব্যক্তি ইন্দ্রনীল সেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

তদন্তকারী সংস্থা আরও দাবি করেছে, টেন্ডার পাওয়া ওই সংস্থাগুলির কাছ থেকে পরে ইন্দ্রনীল সেনের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণাধীন কয়েকটি সংস্থায় বড় অঙ্কের টাকা স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা তোলার তথ্যও তদন্তে পাওয়া গিয়েছে বলে ED জানিয়েছে। এই টাকার উৎস কী, কী ভাবে টাকা জমা পড়েছিল এবং পরে সেই অর্থ কী ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা তদন্তের আওতায় রয়েছে।

POST A COMMENT
Advertisement