KMC Ward Delimitation: কলকাতা পুরসভায় কি ডিলিমিটেশন সত্যিই জরুরি? bangla.aajtak.in-এ মুখ খুললেন প্রাক্তন মেয়র বিকাশ

কলকাতা পুরসভায় ডিলিমিটেশনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যদিও এই কাজের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন প্রাক্তন মেয়র বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি প্রশ্ন করলেন, 'মুখ্যমন্ত্রীই কি পুরসভার দায়িত্ব থাকছেন?'

Advertisement
কলকাতা পুরসভায় কি ডিলিমিটেশন সত্যিই জরুরি? bangla.aajtak.in-এ মুখ খুললেন প্রাক্তন মেয়র বিকাশকলকাতা পুরসভার ওয়ার্ডের ডিলিমিটেশন নিয়ে কী বললেন বিকাশ?
হাইলাইটস
  • কলকাতা পুরসভায় ডিলিমিটেশনের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
  • এই কাজের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন প্রাক্তন মেয়র বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য
  • মুখ্যমন্ত্রীই কি পুরসভার দায়িত্ব থাকছেন?

'৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন বোর্ড গঠন হবে। ওয়ার্ডের পুনর্বিন্যাস করা দরকার।', কলকাতা পুরসভা নিয়ে ঠিক এমন কথাই বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর তাঁর এই বক্তব্যের পর এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে কলকাতায় পুরসভায় ডিলিমিটেশন আসন্ন। 

এই প্রসঙ্গে বলা প্রয়োজন, পুরসভার ডিলিমিটেশন হল একটি প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় পুরসভার নির্বাচনী এলাকা বা ওয়ার্ডগুলির সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত জনসংখ্যা বৃদ্ধি বা শহরের সম্প্রসারণের ফলে প্রতিটি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ও ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য ডিলিমিটেশন করা হয়।  

কী বলেন মুখ্যমন্ত্রী?

সোমবার পুরসভায় এক বৈঠকে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'যেহেতু আমি ভবানীপুরে লড়েছি, সেখানে দেখেছি এক একটা ওয়ার্ডে, এক এক রকম ভোটার সংখ্যা। ভবানীপুরের ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে দেখেছি ৪৯টি বুথ। আবার বহু ওয়ার্ডে কোথাও ২০টি, কোথাও ১৫-১৬টি বুথ। ৮২ নম্বর ওয়ার্ডটি বিরাট... আমি নিজেও ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত কাউন্সিলর ছিলাম। আমাদের সকলেরই মনে হয়েছে ডিলিমিটেশন হওয়া উচিত। রাজ্য সরকারের সুপারিশে রাজ্য নির্বাচন কমিশন এটা করে।'

যদিও এই মুহূর্তে ডিলিমিটেশনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র তথা সিপিআইএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। এমনকী এই প্রসঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করতেও ছাড়েননি। তাঁর মতে, এটা বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়। 

bangla.aajtak.in-কে তিনি বলেন, 'উনি (শুভেন্দু অধিকারী) পুরসভা সম্বন্ধে কতটুকু খোঁজখবর রাখেন? কারা ওকে পরামর্শ দিয়েছেন যে ডিলিমিটেশন করতে হবে? চটকদারি কাজ করতে করতে ভারতের যেমন সর্বনাশ করেছেন মোদিজি, যেটুকু বাকি আছে, এটুকু শুভেন্দুবাবুকে দিয়ে করানো হবে।'

এমন পরিস্থিতিতে তাঁর প্রশ্ন, 'মুখ্যমন্ত্রীই কি পুরসভার দায়িত্বে থাকছেন? মানে ভারতের সংবিধানে যে থ্রি-টায়ার স্ট্রাকচার, সেটা কি ওরা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছেন? আবার সেই কেন্দ্রিকতায় ফিরে যেতে চান?'

সমস্যা সমাধানের দিকে নজর দেওয়া উচিত...

বিকাশরঞ্জনের মতে, বর্তমানে পুরসভার অনেক সমস্যা রয়েছে। সেগুলির দিকেই মূলত নজর দেওয়া উচিত। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'পুরসভার যে পরিকাঠামো, এখন সেখানে কত সংখ্যক কর্মচারীর পদ শূন্য আছে? ঠিকমতো পরিষেবা দিতে পারছে না যা অবস্থা রয়েছে। সেক্ষেত্রে কি ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে উনি খুঁজবেন কোথায় কোথায় তথাকথিত হিন্দু এরিয়া, কোথায় কোথায় তথাকথিত দলিত এরিয়া? দেশটা বিভাজনের পরিকল্পনাই ওদের মাথায় আছে, এছাড়া কিছু নেই।'

Advertisement


তাই এই বাম নেতা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী নতুন প্রশানসকে পুর মৌলিক পরিষেবায় উন্নতি করার এবং সেটা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিলেন। তাঁর দাবি, 'কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বহু মানুষ পানীয় জল ঠিকমতো পান না। বাম আমলে যতটুকু হয়েছিল, তারপরে সামান্য অগ্রগতি হয়নি। সেদিকে দেখুন। কলকাতা শহরের বুকে ব্যাপক বেআইনি নির্মাণ আছে, শুরু করুন না বড়বাজার থেকে! এগুলো করুন। শুধুমাত্র ওই সিলেক্টিভ কিছু জায়গায় বেআইনি নির্মাণ বলে ভেঙে দিয়ে মানুষের মধ্যে একটা উত্তেজনা তৈরি করা, বিভাজন তৈরি করা—এসব কায়দা ছাড়ুন।'

 

POST A COMMENT
Advertisement