শুভেন্দু অধিকারী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে BJP। ব্রিগেড প্যারাড গ্রাউন্ডে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শনিবার শপথ নেবেন বাংলার প্রথম BJP মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ তাবড় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। তবে এই সরকারি শপথ অনুষ্ঠানে কি আসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? তাঁকে কি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমন্ত্রিত?
প্রথমবার বাংলার মসনদে বসেছে BJP। ফলে সেই সরকারের ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে রাখতে জাঁকজমক এবং আড়ম্বরের কোনও ত্রুটি রাখেনি গেরুয়া শিবির। জানা গিয়েছে, আমন্ত্রণ গিয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, 'প্রোটোকল মেনেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।' পাশাপাশি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, আমন্ত্রণ পেয়েছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। এছাড়া কংগ্রেসের প্রতিনিধিকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে খবর।
BJP নেতা রাজর্ষী লাহিড়ী বলেন, 'প্রোটোকল মেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রিসভার সমস্ত সদস্যের কাছেই আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।' তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকবেন না বলেই জানা যাচ্ছে।
আবার শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বালিগঞ্জের জয়ী তৃণমূল প্রার্থী বলেন, 'কাল রাত পর্যন্ত আমি মমতার বাড়িতেই ছিলাম। কিন্তু তখনও তো কোনও আমন্ত্রণপত্র আসেনি। জানি না অবশ্য মমতা আলাদা করে পরে আমন্ত্রণ পেয়েছেন কি না।'
আমন্ত্রিত আর কারা?
রাজনীতিকদের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক জগতের বহু মানুষকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে সৌজন্য মেনে আমন্ত্রণ করা হয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদেরও। তার মধ্যে রয়েছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বও।
উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ভবানীপুরে এবং তাঁর দল BJP-র কাছে পরাজিত হওয়ার পরও হার স্বীকার করতে রাজি হননি। তিনি জানিয়েছেন, পরাজয় স্বীকার করেন না, তাই তিনি পদত্যাগও করেননি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে তিনি ইস্তফা না দিলেও গত ৭ মে, বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ায় রাজ্যপাল তা ভেঙে দেন। ফলত, বর্তমানে তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায তিনি অবশ্য এখনও নিজেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেই পরিচয় দিচ্ছেন।