ISKCON Mid-Day Meal: মিড ডে মিলে ডিম না দিলে পুষ্টির ঘাটতি হবে? ISKCON ইস্যুতে যা বলছেন পুষ্টিবিদ, ডাক্তাররা

এবার কলকাতার স্কুলগুলির মিড ডে মিল দেবে ইসকন। তাতে থাকছে না ডিম। তার বদলে থাকছে নিরামিষ সয়াবিন, পনির ও রাজমা। এতে কি পড়ুয়াদের পুষ্টির ঘাটতি হবে? যা জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকেরা।

Advertisement
মিড ডে মিলে ডিম না দিলে পুষ্টির ঘাটতি হবে? ISKCON ইস্যুতে যা বলছেন পুষ্টিবিদ, ডাক্তাররামিড ডে মিলে নিরামিষ
হাইলাইটস
  • এবার কলকাতার স্কুলগুলির মিড ডে মিল দেবে ইসকন
  • তাতে থাকছে না ডিম
  • তার বদলে থাকছে নিরামিষ সয়াবিন, পনির ও রাজমা

কলকাতা পুরসভার স্কুলগুলির মিড ডে মিলের দায়িত্বে এবার ইসকন। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘোষণা করেছেন। আর এই ঘোষণার পরই বিতর্ক তুঙ্গে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, এবার তাহলে কলকাতার সরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের মিড ডে মিলের ডিমে পড়ল কাঁচি। এতে আদতে ছোটদের শরীরে পুষ্টির অভাব হতে পারে। যদিও ডিম না দেওয়ার কথাটা মেনে নিলেও, পুষ্টির ঘাটতির বিষয়টা মানতে চায়নি ইসকন।

এই প্রসঙ্গে কলকাতা ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট তথা মুখপাত্র রাধারমন দাস জানান, পড়ুয়াদের ভাত-ডাল, সমস্ত রকমের পুষ্টিকর সবজি, সয়াবিন, পনির ও রাজমা দেওয়া হবে। প্রত্যেকদিনের প্রোটিন এবং ভিটামিনের মাত্রা বজায় রেখেই মেনু ঠিক করা হবে। আর মেনু ঠিক করার কাজে একজন ডায়েটিশিয়ান থাকবেন বলেও দাবি করেন তিনি। 

যদিও তারপরও বিতর্ক শেষ হচ্ছে কই! সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি সরকারের এই নয়া উদ্যোগের জন্য ছোটদের পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে বলে অভিযোগ উঠছে। এখন প্রশ্ন হল, এই বিষয়টা নিয়ে ঠিক কী বলছেন পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকেরা? তাঁরা ডিম এবং সয়াবিন, পনির, রাজমার মধ্যে কোনটাকে বেছে নিচ্ছেন? আসুন জেনে নেওয়া যাক। 

এই বিষয়ে বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ ড: অরিত্র খাঁ বলেন, 'পুষ্টিগত দিক দিয়ে বিচার করলে ডিম একটা কমপ্লিট ব্যালেন্স নিউট্রিশন। এতে সবগুলো অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে। এর প্রোটিনের জৈবিক মূল্য বা বায়োলজিক্যাল ভ্যালু খুব বেশি। অর্থাৎ শরীর খুব সহজেই এটা গ্রহণ করে। এছাড়া ডিমে ভাল পরিমাণে অ্যালবুমিন রয়েছে। এটা খুব জরুরি। ডিমের মধ্যে খুব ভাল কোলিন থাকে। এই কোলিন যে আমাদের মস্তিষ্কে অ্যাসিটাইল কোলিন রয়েছে, সেই অ্যাসিটাইল কোলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে ব্রেনের ডোপামিন, সেরোটোনিন ও অন্যান্য নিউরোট্রান্সমিটারগুলো ভাল করে কাজ করে। এতে একাগ্রতা ও বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধি পায়।'

যদিও তিনি পুষ্টিগুণে এরপরেই রেখেছেন সয়াবিনকে। অরিত্র জানান, সয়াবিনের বায়োলজিক্যাল ভ্যালু ৭৬ থেকে ৯৫ এর মধ্যে রয়েছে। এছাড়া এর পিডিকাস ভ্যালুও দারুণ। পিডিকাস ভ্যালু হচ্ছে প্রোটিন ডাইজেস্টিবিলিটি কারেক্টেড অ্যামিনো অ্যাসিড স্কোর। সেই পিডিকাস ভ্যালু অনুযায়ী কিন্তু আবার সয়াবিনের মাত্রা ১। তাই সয়াবিনকেও ডিমের কাছাকাছি রাখা যেতে পারে। তবে তিনি আবারও জানালেন, প্রোটিন এবং খাবারের পুষ্টিগুণের হিসেবে অনেক এগিয়ে ডিম। 

Advertisement

তবে আমিষের বদলে নিরামিষ দেওয়ার ফলে যে বিরাট কোনও ক্ষতি হতে পারে, সেটা মানতে চাননি রাষ্ট্রবাদী চিকিৎসক সংগঠন এনএমও-এর সভাপতি ডা: রুদ্রনীল নন্দী। তিনি বলেন, 'আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিরামিষ খাবার খান। আবার এরকম অনেক অনেক বলিউড সেলিব্রিটি, ক্রিকেটার দেখতে পাবেন যাঁরা ভেজিটেরিয়ান। ব্যাপারটা হচ্ছে শরীরের মধ্যে যে পরিমাণে প্রোটিন দরকার তা উদ্ভিজ্জ প্রোটিন দিয়ে সাপ্লিমেন্ট হয়েই যায়। তবে এর সঙ্গে যদি ডিম দেওয়াও হয়, তাতেও আমাদের কোনও আপত্তির কিছু নেই। আবার ডিমে যে পরিমাণ প্রোটিন যাচ্ছে, সেই পরিমাণের প্রোটিন যদি পনির বা সয়াবিন দিয়ে সাপ্লিমেন্ট করা যায়, আমাদের কোনও অসুবিধে নেই।'

সরকারের মিড ডে মিলের বরাদ্দ বাড়ানোর ঘোষণাকে সমর্থন করলেও ডিমের পক্ষে সওয়াল করলেন অ্যাসোসিয়েশন অব হেলথ সার্ভিস ডক্টরস-এর সাধারণ সম্পাদক ডা: উৎপল বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, 'যে কোনও ভেজিটেবল প্রোটিনের থেকে অ্যানিম্যাল প্রোটিন অবশ্যই ভাল। বিশেষ করে বাংলায় অধিকাংশ মানুষই আমিষ খাবার খান। সেখানে নন ভেজ দেওয়াটাই যুক্তিসঙ্গত বলে আমাদের মনে হয়।' পাশাপাশি তাঁর আরও দাবি, 'উদ্ভিজ্জ প্রোটিন যেটা দেওয়া হয়, সেটা হচ্ছে পনির, সয়াবিন, রাজমা যাই বলুন, এগুলো প্রসেসড ফুড। ন্যাচারাল ফুড নয়।' তাই তিনি ছোটদের ডায়েটে প্রাণিজ প্রোটিন ফেরানোর কথা বললেন। 

এই প্রসঙ্গে বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা: রজত বসু বলেন, 'প্রাণিজ প্রোটিনের পাশাপাশি উদ্ভিজ্জ প্রোটিন খেয়ে অনেকগুলো রাজ্য চলছে। অনেকগুলো রাজ্য প্রাণিজ প্রোটিন ছাড়াই চলছে। সেক্ষেত্রে ইসকন যদি ছোটদের ডায়েটে উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের ভাল সোর্স রাখে, ডিমের বদলে যদি দুধ দেওয়া হয়, তাহলে সমস্যা নেই।' 

পাশাপাশি তাঁর আবেদন, অক্ষয় পাত্র প্রোজেক্টের মতো ইসকন নিজের মতো নিরামিষ খাবার দিক। আর স্কুল প্রাণিজ প্রোটিনের বিষয়টা দেখুক। তাহলেই সমস্যার সহজ সমাধান করা যাবে। এছাড়া ডা: বসুর মতে, এটা একটা পাইলট প্রোজেক্ট। এটাই শেষ কথা নয়। সবদিক বিবেচনা করেই নিশ্চয়ই সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
 

 

POST A COMMENT
Advertisement