যাদবপুর স্টেশন শিয়ালদা বা দমদম স্টেশনের পুনরাবৃত্তি হল না যাদবপুরে। হকার উচ্ছেদ করতে আসা বুলডোজার মঙ্গলবার রাতেই ফিরে গেল সেখান থেকে। CPIM নেতা সৃজন ভট্টাচার্য সহ বাম কর্মীরা দীর্ঘক্ষণ ধরে বোঝানোর চেষ্টা করেন পুলিশ-প্রশাসন ও রেলের আধিকারিকদের। সাফ জানান, পুনর্বাসন না দিয়ে কোনও উচ্ছেদ চলবে না। এরপর অবশেষে পিছু হটতে বাধ্য হয় স্টেশনে প্রস্তুত থাকা বুলডোজার। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন হকাররা।
মঙ্গলবার রাতে যাদবপুর স্টেশনের বাইরে হাজির হয়েছিল পেল্লায় কয়েকটি বুলডোজার। খবর চাউর হতেই মুহূর্তের মধ্যে স্টেশন চত্বরে তীব্র আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়। আশঙ্কা তৈরি হয়, রাতারাতি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে হকারদের দোকান। তারপরই বুলডোজার অ্যাকশন আটকাতে পথে নেমে পড়ে CPIM। সৃজন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক বাম কর্মীরা পৌঁছে যান যাদবপুর স্টেশন চত্বরে। প্ল্যাকার্ড হাতে চলতে থাকে স্লোগানিং। তাঁদের দাবি ছিল, গরিব মানুষের রুজি-রুটিতে হাত পড়তে দেওয়া যাবে না। পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ হবে না।
এই উচ্ছেদ অভিযান রুখতে বাম কর্মীরা হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে সারারাত জেগে অবস্থানের কথা জানিয়ে দেন। দরকার পড়লে তাঁরা হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে স্টেশন চত্বরেই রাত জাগবেন বলে জানান সৃজন।
তীব্র উত্তেজনার মাঝেই পুলিশ এবং রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে দেখা যায় সৃজন ভট্টাচার্যকে। বুলডোজার অভিযান রুখতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, '৮৮ সালের রায় অনুযায়ী, এই অঞ্চলের যাঁরা ব্যবসায়ী আছেন বা যাঁদের ঝুপড়ি রয়েছে, তাঁদের বাসস্থানই শুধু নয়, বিকল্প কর্মসংস্থানের জায়গার ব্যবস্থা না করে এখান থেকে সরানো যাবে না। এটা নিয়ে আমাদের আইনি লড়াই চলছে।' ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী শামিম আহমেদও। তিনিও নথিপত্র নিয়ে দফায় দফায় কথা বলেন পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে।
সৃজন ভট্টাচার্য আরও বলেন, 'রেলের তরফে জানানো হয়েছে, এর সমর্থনে আরও কিছু কাগজ দরকার। তাতে সহযোগিতা প্রয়োজন। আমাদের অধিকার আমরা যথাসময়ে কোর্টের সামনে হাজির করব। আমরা চেষ্টা করব আর কোনওদিন এখানে যেন JCB আসার কোনও অবকাশ তৈরি না হয়, আইনত আমরা সেই চেষ্টাই করছি। হকারদের সঙ্গে কথা না বলে, কোনও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা যাবে না।'
শেষ পর্যন্ত পিছু হটে প্রশাসন। বুলডোজার অ্যাকশন রুখে যায় রাতে। সৃজন বলেন, 'পুলিশ এবং রেলের অফিসাররা ছিলেন এতক্ষণ, তাঁরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, আগামী কিছুদিন এখানে কিছু হওয়ার পরিকল্পনা নেই। সাধারণ মানুষের দাবি আমরা তাঁদের বোঝাতে পেরেছি। এটা কোনও পার্টির ব্যাপার নয়, এলাকার মানুষের বিষয়। ওঁদের কিছু অনুরোধ আছে এই চত্বর নিয়ে, সেই প্রসঙ্গে আবার আলোচনা হবে। ব্যবসায়ী যাঁরা আছেন তাঁদের কথা শোনা হবে। সেটা নিয়ে রেলের সঙ্গে ফের যোগাযোগ করা হবে। তিন সপ্তাহ সময় আছে হাতে, তার মধ্যে এই সমস্যা গুটিয়ে ফেলার চেষ্টা করব আমরা।'
রেল সূত্রে খবর, স্টেশন চত্বরের বেআইনি দখলদারি উচ্ছেদ নিয়ে অনেক দিন ধরেই তৎপর ছিল দফতর। তবে অভিযোগের আঙুল উঠছিল তৃণমূল সরকারের দিকে। আগের সরকারের চরম অসহযোগিতার কারণেই এতদিন ধরে এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় কোনও গতি আনা যাচ্ছিল না বলে দাবি প্রশাসনের। তবে শেষ পর্যন্ত স্বস্তি পেয়েছেন যাদবপুর স্টেশনের হকাররা।