JU-র অশান্তিতে নন্দলাল বসুর তৈরি ঐতিহ্যবাহী ফলক কারা ভাঙল? তদন্ত কমিটি গঠন

যাদবপুরের গেটের ফলক সাধারণ কোনও ফলক নয়। বরং এটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। এই ফলক বিখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসুর তৈরি। আর সেই ফলকই এবিভিপি ভেঙে দিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে এবিভিপি। 

Advertisement
JU-র অশান্তিতে নন্দলাল বসুর তৈরি ঐতিহ্যবাহী ফলক কারা ভাঙল? তদন্ত কমিটি গঠনযাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝামেলা
হাইলাইটস
  • যাদবপুরের গেটের ফলক সাধারণ কোনও ফলক নয়
  • এই ফলক বিখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসুর তৈরি। আর সেই ফলকই এবিভিপি ভেঙে দিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে
  • যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে এবিভিপি

বুধবার রাত থেকে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়। ছাত্র সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবিভিপি এবং এসএফআই সহ অন্যান্য বাম দলগুলি। এবার এই ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গড়া হচ্ছে। এমনই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। আজ, শুক্রবার এই কমিটিতে কারা থাকবেন, সেটা ঘোষণা করা হতে পারে। তারপর শুরু হবে তদন্ত।

কী নিয়ে ঝামেলা?
আসলে বুধবার রাতে জিবি মিটিং বা জেনারেল বডি মিটিং ডাকে বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। এই জিবি মিটিংয়ের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলে দেয় এবিভিপি। তাদের দাবি, যেখানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি, বৈধ কোনও ছাত্র সংসদ নেই, সেখানে কীভাবে জিবি মিটিং ডাকা হয়। যদিও বাম ছাত্র দলগুলির দাবি, জিবি মিটিং যে কেউ ডাকতে পারে। একজন সাধারণ ছাত্রও ডাকতে পারে। এবিভিপিও ডাকতে পারে। এর সঙ্গে ছাত্র সংসদের কোনও যোগ নেই। 

আর এমন পরিস্থিতিতেই দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা, তারপর মারামারি শুরু হয়ে যায় বলে অভিযোগ। এই সময় দুই পক্ষেরই অনেকে আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দুই দলই প্রতিবাদের ডাক দেয়। একদিকে এসএফআই এবং বাম দলগুলি মিছিল করে। অন্যদিকে মিছিলে হাঁটে এবিভিপি। এমন পরিস্থিতিতে ফের রণক্ষেত্রে হয়ে ওঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্ত্বর। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনেই শুরু হয়ে যায় অশান্তি। ইউনিভার্সিটির গেট ধরে উঠতে দেখা যায় অনেককে। এমনকী পুলিশের সঙ্গে শুরু হয়ে যায় খণ্ডযুদ্ধ। 

অভিযোগ এই সময় যাদবপুরের গেটের ফলকও ভেঙে যায়। এই ঘটনার নেপথ্য় এবিভিপি রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। 

ঘটনাচক্রে যাদবপুরের গেটের ফলক সাধারণ কোনও ফলক নয়। বরং এটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। এই ফলক বিখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসুর তৈরি। আর সেই ফলকই এবিভিপি ভেঙে দিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে এবিভিপি। 

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় এবার উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করতে চলেছে বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু কমিটি গড়েই চুপ থাকা হবে না। বরং যাদবপুর থানায় এই সংক্রান্ত অভিযোগ করা হবে। সেই সঙ্গে ১৯ অগাস্ট রাতের ঘটনার সমস্ত CCTV ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে। সেই ফুটেজ তুলে দেওয়া হবে তদন্ত কমিটির হাতে। এই সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে বাইরের থেকে বেআইনিভাবে ক্যাম্পাসে ঢোকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে। সেই সঙ্গে কারা ভাঙচুরের কাজ করেছে, সেটাও দেখা হবে। 

Advertisement

 

POST A COMMENT
Advertisement