মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়।-ফাইল ছবিনিউটাউনে নতুন জৈন মন্দির তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বুধবার ভবানীপুরে এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জৈন সম্প্রদায়ের আবেদনে সাড়া দিয়ে মন্দির নির্মাণের জন্য জমি দেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, সরকার সরাসরি মন্দির নির্মাণ করে না, তবে একটি ট্রাস্ট গঠন করা হলে নিউটাউনে জমির ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।
এদিন ভবানীপুরের মঞ্চ থেকে তিনি জৈন ‘মানস্তম্ভ’ ও সন্ত কুটিয়া গুরুদ্বারের নতুন তোরণের উদ্বোধন করেন। তার আগে জৈন মন্দিরে পুজোও দেন। পাশাপাশি ভার্চুয়াল মাধ্যমে রাজ্যের একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমার ভবানীপুর মিনি ভারত। বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করেন। কারও সমস্যা হলে আমি পাশে থাকার চেষ্টা করি।'
অনুষ্ঠানে সবুজসাথী প্রকল্পের আওতায় ১২ লক্ষ ৫৬ হাজার পড়ুয়ার হাতে সাইকেল তুলে দেওয়ার সূচনা হয়। উল্লেখ্য, এর আগে রাজ্য সরকার মোট ১ কোটি ৪৮ লক্ষ সাইকেল বিতরণ করেছে। এছাড়া দমকল দফতরের জন্য ১০০টি আধুনিক বাইক, অত্যাধুনিক ল্যাডার ও টালিগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের উদ্বোধন করা হয়। পরিবহণ দফতরের ১০০টি এসি ও ২০টি নন-এসি সিএনজি বাসেরও সূচনা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কোটা থেকে ২০ জনকে সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।
এছাড়া শিলিগুড়িতে নির্মাণকর্মীদের জন্য হস্টেল ও প্রশিক্ষণ শিবির, নিউটাউনে সংখ্যালঘু সংস্কৃতি উন্নয়ন কেন্দ্র এবং ভাঙড়ের বিজয়গঞ্জে নতুন থানার সূচনাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে ৩৯০ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার ১৪৬টি প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ৪৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭০টি প্রকল্পের শিলান্যাস করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার মেয়র ও পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু, সাংসদ মালা রায় সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। উপস্থিত ছিলেন জৈন, শিখ, মুসলমান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও।
মুখ্যমন্ত্রীকে দেখতে এদিন ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠান শেষে তিনি এসএসকেএম সংলগ্ন গুরুদ্বারে গিয়ে নতুন তোরণ পরিদর্শন করেন এবং শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। নতুন তোরণ নির্মাণের জন্য শিখ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তাঁকে ধন্যবাদ জানানো হয়।