Abhishek Banerjee, Javed Khan মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওভারটেক করে কার্যত 'নতুন তৃণমূল কংগ্রেস' দল তৈরি করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে এখনও পরামর্শদাতা হিসেবে চান। কিন্তু অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়! তাঁর কী হবে?
যে ৫৮ বিধায়ক বিধানসভায় পরিষদীয় দল গড়লেন তাঁদের যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ক্ষোভ ছিল, তার ইঙ্গিত আগেই মিলেছিল। তবে ক্ষোভ যে এতটা বেশি তার হাতে-গরম প্রমাণ দিলেন কসবা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ খান।
তিনি যে অভিষেকের নেতৃত্বকে একেবারেই গুরুত্ব দেন না, সেটা বুঝিয়ে দিলেন কথাবার্তায়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বললেন,'কে অভিষেক? কে সেটা? কই চিনি না তো!' অভিষেককে নিয়ে নতুন গঠিত পরিষদীয় দলের অবস্থান কী তা সকালেই পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী দলনেতার আসনে বসে বলেছিলেন, 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধায়সভায় কোনও কাজ নেই। গুরুত্বও নেই। তাঁকে নিয়ে আমরা ভাবছিও না। আর অভিষেকের সঙ্গে তো মানুষের কোনও যোগ নেই। না হলে দল হারার পর ওভাবে একজনকে চোর চোর শুনতে হয়? বা মার খেতে হয়? দলের পরাজয়ের পর তাঁকে প্রথম দেখা যায় ২৬ দিন পর। তাঁকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রশ্নই নেই।'
প্রায় একই কথা শোনা যায় তৃণমূলের বাকি বিদ্রোহী বিধায়কদের মুখেও। অভিষেককে চেনেনই না এমনটাও বলেন বিদ্রোহী জাভেদ আহমেদ খান। তিনি বলেন, 'আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে চিনিই না। কে তিনি? মমতার সঙ্গে কাজ করেছি। আজও চাই তিনি আমাদের পরামর্শদাতা হিসেবে থাকুন।'
জাভেদ খান আরও দাবি করেন, তৃণমূলে গণতন্ত্র নেই, সেই দলে থাকা আর না থাকা সমান। তাদের কথা বলারও কোনও অধিকার ছিল না। দলের ভিতরে থাকলেও কোণঠাসা করে রাখা হত। নির্বাচনের পরে সর্বোচ্চ নেতৃত্বকেও দেখা যায়নি। তাঁর কথায়, 'আমরা তৃণমূলেরই। তবে দলটাকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চালাব। একনায়কতন্ত্র চলবে না। অভিষেক বা অন্য কোনও অগণতান্ত্রিক লোককে মানব না। নিজে মন্ত্রী হয়েও একবার নেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারতাম না। দলটা এভাবেই চলত।'
রাজনীতিবিদদের একাংশের মতে, তৃণমূল কংগ্রেস হেরে যাওয়ার নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকলেও প্রধান কারণ অভিষেকই। এমনটাই মনোভাব দলেরই সিনিয়র নেতাদের। ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি দলটি তৈরি হয়েছিল মমতার হাত ধরে। ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও ভোটের ফলাফল প্রকাশের এক মাস না হতেই কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া নজিরবিহীন ঘটনা। অথচ এই ধ্বংসের বীজ বপন করেছিলেন মমতা নিজেই। কারণ অভিষেককে তিনিই দলের নম্বর টু বানিয়েছিলেন। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, আইপ্যাকের মতো সংস্থাকে কাজে লাগানো, সিনিয়র নেতাদের গুরুত্ব না দেওয়া, একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার জেরেই তাসের ঘরে পরিণত হয়েছে মমতার দল।