কাজল শেখ বিধানসভার লবিতে মমতা তৃণমূলের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হাত থেকে বিজয়ার মিষ্টি খেয়েছিলেন। সেটাই যেন কাল হয়ে গেল কাজল শেখের কাছে। একদিনের মধ্যেই তাঁর নিরাপত্তারক্ষী সরিয়ে নিল নবান্ন। আর তিনিও রাতারাতি ঋতব্রত শিবির থেকে কালীঘাট শিবিরের দিকে এক কদম এগনোর ইঙ্গিত দিয়ে দিলেন।
বৃহস্পতিবার নিরাপত্তারক্ষী সরিয়ে নেওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাজল শেখ বলেন, ''বিজয়ার মিষ্টি খেয়েছি তাই ২ জন সিকিউরিটিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরকম ভাবে নিরাপত্তা সরিয়ে নিলে আরও মিষ্টি খাব। বিজয়ার মিষ্টি খাওয়া সৌজন্যবোধ, কোনও অপরাধ নয়।' পাশাপাশি তিনি নিজের শিবিরের চিফ হুইপ আখরুজ্জামানকে ফের নিরাপত্তা ফেরানোর দাবিও জানান।
কিন্তু শোভনদেবের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ কি তাঁর মমতার শিবিরে ফেরার প্রথম ধাপ? এর উত্তরে অবশ্য কাজল শেখ বলেন, 'মমতাই আমার নেত্রী। আমি সর্বদা ওঁর দিকেই আছি।' ছাব্বিশের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর ঋতব্রত শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন হাঁসন বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক কাজল শেখ। কিন্তু বিজয়ার পর হঠাৎ করে মমতাপন্থী বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে জল্পনা উস্কে দিয়েছে। তবে কি কাজল শেখের ঘরওয়াপসি হতে চলেছে?
বীরভূম জেলার এই রাজনীতিবিদ বরাবরই অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে ঠান্ডা লড়াই চালিয়েছেন। গরুপাচার মামলায় অনুব্রত গ্রেফতার হওয়ার পর জেলায় কাজলের আধিপত্য বেড়েছিল। তৃণমূল আমলের শেষ পঞ্চায়েত নির্বাচনে জেলা পরিষদের আসনে জয়লাভ করে সভাধিপতি হয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকেই কাজলকে ২ জন নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া হয়। সামনে ও পিছনে পাইলট ও স্কট গাড়ি এবং ২ সশস্ত্র নিকাপত্তারক্ষী মোতায়েন ছিল কাজলের সুরক্ষায়। পরে সেই ক্যাটেগরি বৃদ্ধি পায় এবং ওয়াই ক্যাটেগরিতে কাজল শেখের সুরক্ষায় ১৫ পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল।
ছাব্বিশের বিধানসভায় তৃণমূলের দুর্দিনেও জোড়াফুল টিকিটে হাঁসন বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জেতেন কাজল শেখ। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর কাজলের ওয়াই ক্যাটেগরির নিরাপত্তা সরিয়ে দেওয়া হয়। পরিবর্তে ৪ জন নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া হয়েছিল তাঁকে।
গত ৪ অগাস্ট কাজল শেখের বিরুদ্ধে জেলা পরিষদে অনাস্থা আনেন ১৯ জন সদস্য। অনাস্থা প্রস্তাবের বৈঠকের আগেই ২০ অগাস্ট কাজল জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ থেকে ইস্তফা দেন। একইসঙ্গে সরে যায় কাজলের সমস্ত নিরাপত্তাও।
কিন্তু ঋতব্রত শিবিরে নাম লেখানোর পর পুনরায় ২ জন দেহরক্ষী মোতায়েন হয় কাজলের সুরক্ষায়। তবে গত ২৮ অক্টোবর বিধানসভায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মিষ্টি খেতে দেখা যায়। এর পরিণাম হিসেবেই তাঁর নিরাপত্তা ফের প্রত্যাহার করে নেওয়া হল বলে অনুমান এই নেতার।