Kali Puja Firecracker Rules: কালীপুজোয় দু'ঘণ্টা বাজি পোড়ানো যাবে, ফানুস নিয়েও নয়া নিয়ম, আরও একাধিক শর্ত

সুপ্রিম কোর্টের রায় ধরেই কালীপুজো এবং ছটপুজোয় বাজি পোড়ানোয় কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করল রাজ্য সরকার। উৎসবের আনন্দে যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয় এবং জনজীবন বিপন্ন না হয়, সেদিকে লক্ষ রেখেই এই নিয়মাবলী তৈরি করা হয়েছে।

Advertisement
কালীপুজোয় দু'ঘণ্টা বাজি পোড়ানো যাবে, ফানুস নিয়েও নয়া নিয়ম, আরও একাধিক শর্ত কালীপুজোয় কখন ফাটানো যাবে বাজি?

সুপ্রিম কোর্টের রায় ধরেই কালীপুজো এবং ছটপুজোয় বাজি পোড়ানোয় কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করল রাজ্য সরকার। উৎসবের আনন্দে যাতে পরিবেশের ক্ষতি না হয় এবং জনজীবন বিপন্ন না হয়, সেদিকে লক্ষ রেখেই এই নিয়মাবলী তৈরি করা হয়েছে। কালীপুজো ও ছটপুজোয় বাজির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে প্রশাসন। নবান্নের সভাঘরে সাংবাদিক বৈঠকে এই নিয়ে বিস্তারিত জানালেন সিপি অজয় নন্দা ও স্বরাষ্ট্রসচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ। উপস্থিত ছিলেন দমকলের ডিজি অনুজ শর্মাও।

কখন পোড়াতে পারবেন বাজি? 
স্বরাষ্ট্র সচিব জানান, সাধারণ মানুষকে শুধুমাত্র সবুজ বাজি ফাটানোর জন্য আবেদন জানানো হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দীপাবলির সময় রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত এবং ছটপুজোর সময় সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত বাজি পোড়ানো যাবে। বাজি বাজার লোকালয়ের মধ্যে না করে ফাঁকা জায়গায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল, নার্সিং হোম ও ওল্ড এজ হোমের ১০০ মিটারের মধ্যে বাজি পোড়ানো যাবে না। এই এলাকাগুলিকে সাইলেন্ট জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ডেসিবেলের সীমা
প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, কালীপুজো ও ছটপুজোয় কেবল পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন ক্র্যাকার্স’ ফাটানোর অনুমতি থাকবে। শব্দবাজির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শব্দসীমা ১২৫ ডেসিবেল এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ৯০ ডেসিবেল নির্ধারণ করা হয়েছে। বহুতল আবাসনগুলোতে বাজি ফাটানোর সময় ধোঁয়ার মাত্রার দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ফানুস ওড়ানোর জন্য অগ্নি নির্বাপক (ফায়ার) বিভাগের লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সাইলেন্ট জোন নিয়ে নির্দেশিকা
হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রমের ১০০ মিটারের মধ্যে বাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। লোকালয় থেকে দূরে প্রশাসনের নির্ধারিত নিয়ম মেনে বাজি বাজার বসাতে হবে এবং তার ওপর কড়া নজরদারি চলবে। ইতিমধ্যে বড়বাজার থেকে ১১০ কেজি নিষিদ্ধ বাজি উদ্ধার করা হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

ফানুস নিয়ে নিয়ম
বাজি সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য কন্ট্রোল রুমের নম্বরও খুব শীঘ্রই জানানো হবে। ফানুস ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আগাম অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। ফানুস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও, যাঁরা ফানুস ব্যবহার করবেন, তাঁদের আগে থেকে দমকল ও পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে।

Advertisement

হেল্পলাইন নম্বর 
ডিজিপি সিদ্ধীনাথ গুপ্ত  স্পষ্ট জানিয়েছেন, নিয়ম অমান্য করলে আইনানুগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর জন্য প্রশাসনের তরফে হেল্পলাইন নম্বর দেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র সচিব সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ জানিয়েছেন, নিজেদের আনন্দের জন্য যেন অপরের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকতে হবে।  এ ছাড়াও, যেখানে বাজি তৈরি ও মজুত করা হয়, সেই সমস্ত জায়গায় নিয়মিত অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র সচিব। বাজি বাজারগুলিতেও পরিদর্শন চালানো হবে।

POST A COMMENT
Advertisement