আনন্দপুরের নাজিরাবাদের একটি অগ্নিদগ্ধ কারখানায় মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।-ফাইল ছবিকলকাতার আনন্দপুরের নাজিরাবাদের একটি অগ্নিদগ্ধ কারখানায় মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত তিনটি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে স্থানীয় ও সূত্রের দাবি, মৃতের সংখ্যা অন্তত ৮ জন এবং আরও ১৭ থেকে ২০ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের অনেকেই আগুনে পুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন বলে আশঙ্কা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।
উদ্ধারকাজে নেমে দমকল কর্মীদের অভিজ্ঞতাও সেই আশঙ্কাকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। অগ্নিদগ্ধ গোডাউনের ভিতরে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে তাঁদের পায়ে ঠেকছে পোড়া হাড়ের টুকরো, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে স্পষ্ট করছে।
I express my Deepest Condolences and Heartfelt Sorrow to the families of the innocent workers who lost their lives (8 reported till now with the grim possibility of the number going up). More than 20 are reportedly missing in the horrific fire tragedy at Anandapur, with many yet… pic.twitter.com/NtjBdU8XLB
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) January 27, 2026
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকার ও অগ্নিনির্বাপণ মন্ত্রী সুজিত বসুকে তীব্র আক্রমণ করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি জানান, আনন্দপুরের এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নিরীহ শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছেন। তাঁর দাবি, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি ২০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাঁদের অনেকের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো শ্রমিকদের অধিকাংশই ছিলেন অল্প বয়সী এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাঁদের বেশিরভাগের বাড়ি পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। এই অকাল মৃত্যু শুধু সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলিকেই নয়, গোটা সমাজকেই গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়, এটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের দীর্ঘদিনের অবহেলা, অযোগ্যতা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফল। নিয়মিত পরিদর্শনের অভাব, নিরাপত্তা বিধি কার্যকর না করা এবং অবৈধ শিল্প ইউনিটগুলির ওপর নজরদারির ঘাটতির কারণেই এমন মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছে বলে দাবি তাঁর।
শুভেন্দু আরও জানান, পূর্ব কলকাতা জলাভূমি অঞ্চলের নাজিরাবাদ এলাকায় গত কয়েক বছরে বেআইনিভাবে জমির চরিত্র বদলে একের পর এক অবৈধ শিল্প গড়ে উঠেছে। দাহ্য পদার্থে ভর্তি তালাবদ্ধ গুদামগুলির মধ্যে শ্রমিকদের আটকে পড়তে হয়েছিল। পালানোর কোনও পথ ছিল না, সরু গলিপথ উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি করে এবং কার্যত কোনও অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থাই সেখানে ছিল না।
শুভেন্দু অধিকারী প্রশ্ন তোলেন, কলকাতার উপকণ্ঠে এত বিপজ্জনক গুদামগুলিতে শ্রমিকদের রাত কাটাতে বাধ্য করা হচ্ছিল, এ কথা প্রশাসনের অজানা কীভাবে রইল? পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ মন্ত্রী সুজিত বসু ঘটনার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিকরা কেন গুদামে ছিলেন, সে প্রশ্ন তোলাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
শুভেন্দুর কথায়, ';এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের উদাসীনতা, দুর্নীতি ও চরম অব্যবস্থাপনার উপর বর্তায়। এএমআরআই হাসপাতাল, বড়বাজারের পর এবার আনন্দপুর, একটির পর একটি ট্র্যাজেডি ঘটছে, কিন্তু সরকার কোনও শিক্ষা নিচ্ছে না।'
শুভেন্দু অবিলম্বে একটি উচ্চপর্যায়ের, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দোষীদের কঠোর শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবিও তুলেছেন।