কলকাতা জলমগ্ন।-পিটিআইবর্ষার প্রথম বড় বৃষ্টিতেই কার্যত নাকাল কলকাতা। শুক্রবারের টানা বৃষ্টিতে শহরের একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে, তৈরি হয় তীব্র যানজট। তবে এরই মধ্যে স্বস্তির খবর, তাপমাত্রা এক ধাক্কায় প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যাওয়ায় ভ্যাপসা গরম থেকে কিছুটা রেহাই পেয়েছেন শহরবাসী।
আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত আলিপুরে ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। যদিও শহরের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ আরও বেশি ছিল। দমদমে ৬৪ মিলিমিটার এবং হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় ১১১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর জেরে কলকাতার বহু রাস্তা দীর্ঘ সময় জলমগ্ন হয়ে থাকে।
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন ভবানীপুরের নর্দার্ন পার্ক, আমহার্স্ট স্ট্রিট, সুকিয়া স্ট্রিট, কলেজ স্ট্রিট, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, ক্যামাক স্ট্রিট এবং ভিআইপি রোডের তেঘরিয়া ও হালদিরাম মোড় সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। অনেক জায়গায় হাঁটুর নীচ পর্যন্ত জল জমে যায়। সল্টলেকের করুণাময়ী, সিজিও কমপ্লেক্স, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হোমিওপ্যাথি এবং পিএনবি আইল্যান্ড এলাকাও জলমগ্ন হয়ে পড়ে।
দিনের বেলায় আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের কিছু অংশেও জল ঢুকে পড়ে। জল জমে যাওয়ায় রোগীদের পরিবারের সদস্যদের স্ট্রেচার ঠেলে জল পেরিয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়, যা স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
জল জমা পরিস্থিতি সামাল দিতে কলকাতা পুরসভা ৪০টিরও বেশি সাকশন পাম্প নামায়। বিভিন্ন এলাকা থেকে জল তুলে ট্যাঙ্কারে ভরে নিকাশি ব্যবস্থার মাধ্যমে সরানোর চেষ্টা করা হয়। পুরসভার দাবি, বিকেলের পর অধিকাংশ এলাকা থেকে জল নেমে গেলেও নর্দার্ন পার্ক ও আমহার্স্ট স্ট্রিটে কিছুটা সমস্যা বজায় ছিল। ওই দুই এলাকায় নতুন নিকাশি প্রকল্পের কাজ চলায় জল নিষ্কাশনে সাময়িক অসুবিধা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুরসভা।
অন্যদিকে, কালীঘাট মেট্রো স্টেশনের বাইরে রাসবিহারী অ্যাভিনিউ এবং ভিআইপি রোডে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। তেঘরিয়া ও হালদিরাম মোড়ের কাছে অনেক জায়গায় রাস্তার উপর এতটাই জল জমেছিল যে কয়েকটি গাড়ির চাকার অর্ধেক পর্যন্ত ডুবে যায়। বিধাননগর পুরনিগম জানিয়েছে, নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো প্রকল্পের কাজের কারণে কিছু অংশের নিকাশি ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াতেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।
তবে এই বৃষ্টি শহরবাসীকে তীব্র গরম থেকে খানিকটা স্বস্তি দিয়েছে। শুক্রবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নেমে এসেছে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৫ ডিগ্রি কম।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা বজায় থাকবে। যদিও শুক্রবারের মতো এত ব্যাপক ও তীব্র বৃষ্টিপাত নাও হতে পারে। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত দফায় দফায় বৃষ্টি চলতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, পাঞ্জাব থেকে বিহার পর্যন্ত বিস্তৃত মৌসুমি অক্ষরেখা এবং বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প প্রবেশের ফলেই দক্ষিণবঙ্গে এই বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।