Tiljala Bulldozer Action: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, ১ ঘণ্টার মধ্যেই তিলজলায় অবৈধ কারখানায় বুলডোজার

তিলজলায় অগ্নিকাণ্ডে দুজনের মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ১ দিনের মধ্যে অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে। এই নির্দেশ দেওয়ার কয়েকঘণ্টার মধ্যে কেএমসি ও কেএমডিএর যৌথ উদ্যোগে তিলজলায় দু’টি বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু হয়। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এলাকা ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

Advertisement
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, ১ ঘণ্টার মধ্যেই তিলজলায় অবৈধ কারখানায় বুলডোজারতিলজলায় নামল বুলডোজর

উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছে বুলডোজ়ারের। অনেকেই তাঁকে ‘বুল়ডোজ়ার বাবা’ নামে ডাকেন। সেই বুলডোজ়ারের এবার আগমন ঘটল শহর কলকাতাতেও। বুধবার তিলজলা এলাকায় নামল বুলডোজার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পরই তিলজলায় বেআইনি কারখানা ভাঙতে আনা হয়েছে বুলডোজার।

প্রসঙ্গত, শহরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অবৈধ নির্মাণের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে বিজেপি সরকার। তিলজলার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর  বেআইনি কারখানার বিরুদ্ধে কার্যত 'যুদ্ধ' ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।  তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অনুমোদনহীন প্ল্যান, অগ্নিসুরক্ষা বিধি লঙ্ঘন এবং বিদ্যুৎ সুরক্ষা বিধি না মেনে চলা সমস্ত অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিলজলার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, সংশ্লিষ্ট কারখানাটি ছিল ‘সম্পূর্ণ অবৈধ’ এবং এই ঘটনায় শেখ নাসির ও শামিম আহমেদ নামে দুই মালিককে  ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিলজলায় অগ্নিকাণ্ডে দুজনের মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ১ দিনের মধ্যে অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলতে হবে। এই নির্দেশ দেওয়ার কয়েকঘণ্টার মধ্যে কেএমসি ও কেএমডিএর যৌথ উদ্যোগে তিলজলায় দু’টি বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু হয়। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। এলাকা ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

তিলজলার ওই কারখানাটির বিদ্যুৎ সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করার জন্য  বিদ্যুৎ সচিবের মাধ্যমে সিইএসসি (CESC)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি কসবা, তিলজলা, মোমিনপুর এবং ইকবালপুরের মতো এলাকাগুলোতে কতগুলো অনুমোদনহীন কারখানা চলছে, তা শনাক্ত করতে জরুরি ভিত্তিতে ‘ইন্টারনাল অডিট’ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। যে সমস্ত কারখানা অনুমোদিত প্ল্যান ছাড়া চলছে, তাদের প্রত্যেকের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলা হয়েছে।

বেআইনি নির্মাণ রুখতে কড়া অবস্থান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পুর ও নগরোন্নয়ন সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন, কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশের সহায়তায় শনাক্ত করা বেআইনি কাঠামো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। বিদ্যুতের পাশাপাশি বেআইনি ও ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলোর জল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য কলকাতা পুরসভাকে নির্দেশ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা রুখতে এবং শহরকে সুরক্ষিত রাখতে এই ধরনের কড়া প্রশাসনিক দাওয়াই অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে মনে করছে নবান্ন।

Advertisement

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার তিলজলায় একটি চামড়ার কারখানায় আগুন লাগে। দু’জনের মৃত্যু হয়। তিন জন হাসপাতালে ভর্তি। বুধবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক সম্মেলন করে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, তিলজলার ওই কারখানার কোনও বিল্ডিং প্ল্যান নেই। অবৈধ ভাবে কারখানা চলছিল। কারখানার মালিক শেখ নাসির ও শামিম মহম্মদকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।

 মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর KMC-এর তরফ থেকে কারখানা ভাঙতে ময়দানে হাজির  হয় বুলডোজার। বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু হয়। ৪ থেকে ৫টি বুলডোজার এসে উপস্থিত হয়।  পুরো বাড়ি ফাঁকা করিয়ে দেওয়া হয়েছে। যা জিনিস আছে সব সরিয়ে নিচ্ছেন বাড়ির লোকেরা। ২টি বাড়ি ভাঙার কাজ চলছে। এই মুহূর্তে এই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। 
 

POST A COMMENT
Advertisement