কলকাতা পুরসভা -- ছবিটি সংগৃহীতমিশন নবান্ন হয়ে গিয়েছে। এ বার লক্ষ্য, লালবাড়ি। কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্যে পালা বদলের পরে একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর ইস্তফা দিয়েছেন। দুর্নীতির অভিযোগে অনেকে হাজতেও। এহেন আবহে পুরভোটে কলকাতার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলছেন, 'প্রথমবার সনাতনী মেয়র পাবে কলকাতা।' অর্থাত্ পুরভোটেও বিজেপি-র একচেটিয়ে জয়ের ইঙ্গিত।
কলকাতা পুরসভা এখনও তৃণমূল কংগ্রেসেরই দখলে রয়েছে। শেষবার ২০২১ সালে ভোট হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালে চিত্রটা বদলে গিয়েছে। বিধানসভায় দেখা গেল, যে কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিপত্য ছিল দীর্ঘদিন, সেই কলকাতায় মাত্র ৫টি আসনে জয়ী হয়েছে তৃণমূল।
কলকাতা পুরসভা এলাকায় যে ৩টি লোকসভা কেন্দ্র রয়েছে, তাতে ১৬টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১১টি আসনেই জিতেছে বিজেপি। ওয়ার্ড ভিত্তিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০১টি ওয়ার্ডেই বিজেপি এগিয়ে। তৃণমূল মাত্র ৪৩টি আসনে এগিয়ে। যার নির্যাস, পুরভোটেও পালা বদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট।
২০২১ সালের ভোটে কী হয়েছিল?
সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতায় পুরভোট হয়ে যাবে। ২০২১ সালে শেষবার ভোট হয়েছিল কলকাতা পুরসভায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচেটিয়া জয় দেখেছিল সে বছর রাজ্যবাসী। কলকাতা পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৩৪টি ওয়ার্ডে জিতেছিল তৃণমূল।
বামেরা যখন ক্ষমতায় ছিল, তখনও কলকাতা পুরসভায় জিতেছে তৃণমূল। সরকারে বামেরা ছিল, কিন্তু কলকাতার মেয়র ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে চিত্রটা একেবারে অন্যরকম হয়ে গেল। কসবা,তিলজলা, খিদিরপুর সহ কিছু সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা ছাড়া বাকি সব জায়গায় তৃণমূলের পরিস্থিতি শোচনীয়।
সম্প্রতি দেশে বিজেপি একাধিক পুরসভোটে সাফল্য পেয়েছে। গতবছর বৃহন্মুম্বই কর্পোরেশন জিতেছে বিজেপি-র নেতৃত্বাধীন এনডিএ। দেশের সবচেয়ে ধনী পুরনিগম। ২০২৪ সালে মহারাষ্ট্রে ক্ষমতায় আসার পরেই BMC-তে এই সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। কেলরেও তিরুঅনন্তপুরমের পুরনিগমের দখল নিয়েছে বিজেপি। এই পুরনিগমে দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বামেদের আধিপত্য ছিল।
পুরসভার পুনর্বিন্যাসও ফ্যাক্টর
কলকাতা পুরসভার ডিলিমিটেশন হতে চলেছে। নতুন ওয়ার্ড বিন্যাস সংক্রান্ত চূড়ান্ত খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। ২০২৬-এর সংশোধনের ফলে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯ হয়েছে। সরকারের তরফে বলা হয়েছে, কলকাতা পুর এলাকায় ১৫ থেকে ১৮ হাজার ভোটার পিছু এক একটি বুথ তৈরি হবে। এই ডিলিমিটেশনের অসন্তুষ্ট বিরোধীরা। তাঁদের বক্তব্য, বিধানসভা ভোটের আগে, SIR-এ রাজ্যে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। প্রচুর মানুষ নতুন করে ভোটার লিস্টে নাম তোলার জন্য আবেদন করেছেন। এর মধ্য়ে কিছু নাম ফের ঢুকলে, ভোটার-বিন্যাস ঠিক থাকবে তো?
তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতার ফায়দা তুলতে পারবে বামেরা?
এই প্রসঙ্গে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টচার্যের বক্তব্য, গুন্ডামি প্রতিরোধ করতে পারলে, বামেরা নিশ্চয়ই জিতবে। তিনিও ডিলিমিটেশনকেই দুষছেন। bangla.aajtak.in-কে বললেন, 'যে ভাবে ডিলিমিটেশন হচ্ছে, তাতে আরও বেশি গুন্ডামি হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের মতোই বিজেপির-ও একই অ্যাজেন্ডা। সেই গুন্ডামি প্রতিরোধ করতে পারলে বামেরা নিশ্চয়ই ভাল ফল করবে।' সুকান্ত মজুমদারের 'সনাতনী মেয়র' মন্তব্যকে কটাক্ষ করে তিনি বললেন, 'সনাতনী মেয়র মানে তো আদানি, আম্বানিদের তুষ্ট করা মেয়র ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের দালাল ছিল।'