এই পোস্টার ঘিরেই বিতর্ক, শেষে ক্ষমা চাইল পুজো কমিটিকলকাতার একটি নামী পুজো ঘিরে বিতর্ক দানা বাঁধতেই এবার পদক্ষেপ নিল পুজো কমিটি। থিমের একটি পোস্টার ঘিরে সম্প্রতি বিতর্কে জড়িয়েছিল দক্ষিণ কলকাতার নামী পুজো ইয়ং মেনস অ্যাসোসিয়েশন। সেই পোস্টার বিতর্কে এবার ক্ষমা চাইল বেহালার ওই পুজো কমিটি।
কী ঘটনা ঘটেছে?
বেহালার ইয়ং মেনস অ্যাসোসিয়েশন-এর তরফে তাঁদের থিমের কয়েকটি পোস্টারকে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করছিল কমিটি। অভিযোগ, তেমনই একটি পোস্টারে, প্রয়াত তবলা বাদক জাকির হোসেনকে অপমান করে কোম্পানি।
বেহালা ইয়ং মেনস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, পোস্টারে তবলার একটি ছবির সঙ্গে বাংলায় লেখা ছিল ‘ফাঁকির হোসেন’। এই পোস্টারের মাধ্যমে কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পীকে অপমান বা উপহাস করার কোনও উদ্দেশ্য তাঁদের ছিল না বলে জানিয়েছে পুজো কমিটি।
এক বিবৃতিতে কমিটি জানিয়েছে, “এই বছরের থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিশুসুলভ উপস্থাপনা করাই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল। কলকাতার সঙ্গে যাঁর যোগ ছিল, এমন কোনও কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বকে হেয় করা বা তাঁকে নিয়ে মজা করার কোনও উদ্দেশ্য আমাদের ছিল না। এর ফলে কোনও শিল্পী বা কোনও ব্যক্তি আঘাত পেয়ে থাকলে আমরা নিঃশর্তে ক্ষমা চাইছি।”
পুজো কমিটি জানিয়েছে, এ বছর তাঁদের পুজোর থিম ‘ছুটি’। শৈশবের কল্পনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মধ্যে যে বিস্তর দূরত্ব ও বৈপরীত্য রয়েছে, সেই বিষয়টিকেই এই থিমের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে। আয়োজকদের বক্তব্য, একটা সময় ছিল, যখন শিশুরা মেঘের দিকে তাকিয়েই নিজেদের কল্পনার জগতে ডুবে যেতে পারত। কিন্তু আজকের AI দুনিয়ায় সেগুলি হারিয়ে যাচ্ছে। এই অভিজ্ঞতাই তুলে ধরা হবে মণ্ডপে।
প্রতিমা ও মণ্ডপ তৈরির কাজে যুক্ত রয়েছেন স্বনামধন্য শিল্পী সনাতন দিন্দা। তিনি জানিয়েছেন, বিতর্কিত পোস্টারটি তৈরির ক্ষেত্রে তাঁর কোনও ভূমিকা নেই। তিনি জানান, নিজের শিল্পভাবনা অনুযায়ী তিনি প্রতিমা এবং মণ্ডপসজ্জার কাজ করছেন। বিতর্কিত পোস্টারটি তাঁর কাজের অংশ নয়।