চোরবাগানের প্রাথমিক তদন্ত।চোরবাগানে পদপিষ্টের ঘটনায় দায়ী কে? কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা? পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দর্শনার্থীদের একাংশের কারণেই ওই দুর্ঘটনা ঘটে। আসলে বৃষ্টির হাত থেকে 'পুজোর পোশাক ও মেকআপ বাঁচাতে' মণ্ডপের এগজিট গেটে ভিড় করেছিলেন মহিলারা। তার জেরেই ভিড় বাড়তে থাকে। শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি। পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়।
চোরবাগানের দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চালাচ্ছে কলকাতা পুলিশ। এক পুলিশ কর্তা উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, তদন্তে যে প্রশ্নগুলির উত্তর খোঁজা হচ্ছে, তা হল ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোনও গাফিলতি কি ছিল? মহিলা স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশকর্মীর সংখ্যা পর্যাপ্ত ছিল? বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করতে দেরি হয়েছিল?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, মানুষের ভুলেই চোরবাগানে দুর্ঘটনা ঘটেছিল। গোটা ঘটনাকে 'হিউম্যান এরর' বলেছেন। এবার এক পুলিশ কর্তার মুখে উঠে এল প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট। ওই পুলিশ কর্তা জানান, ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। আচমকা বৃষ্টি শুরু হওয়ায় মণ্ডপ থেকে বাইরে যাওয়ার পথে ভিড় বাড়তে থাকে। তার জেরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
মহিলাদের ভিড়
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এগজিটের কাছে বেশ কয়েক জন মহিলা জড়ো হয়েছিলেন। বৃষ্টিতে পোশাক ও মেকআপ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মণ্ডপ ছেড়ে বেরোতে চাইছিলেন না। ভিড় বাড়তে থাকায় ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। একে অপরের গায়ে হুমড়ি খেয়ে পড়তে থাকেন দর্শনার্থীরা'।
প্রথম সপ্তমীর দিন কলকাতায় সন্ধ্যায় শুরু হয়েছিল তুমুল বৃষ্টি। উত্তর কলকাতার চোরবাগানে সেই সময় ছিল ভিড়। আর সেই ভিড়ই নিয়ন্ত্রণ হারায়। পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ১৯ জনের। আহত হন ২৫ জন। ঘটনার পর পুলিশ ও পুজো কমিটির বিরুদ্ধে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগও ওঠে। ঘটনার তদন্ত শুরু করে দিয়েছে হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বাধীন ৬ সদস্যের তদন্তকারী দল।