কলকাতা ও আশপাশে কোথায় ফ্ল্যাট কিনলে সবচেয়ে বেশি টাকা ভাড়া পাওয়া যায়?

সমীক্ষায় প্রকাশ, ভারতের আবাসন বাজার এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য একসঙ্গে সম্পত্তির দাম বৃদ্ধি এবং ভাড়ার আয় দুই দিক থেকেই লাভের সুযোগ তৈরি করছে।

Advertisement
কলকাতা ও আশপাশে কোথায় ফ্ল্যাট কিনলে সবচেয়ে বেশি টাকা ভাড়া পাওয়া যায়?কলকাতার ফ্ল্যাট মালিকদের জন্য সুখবর
হাইলাইটস
  • সম্পত্তির দামের বৃদ্ধির নিরিখে দেশের মধ্যে সবার উপরে রয়েছে নয়ডা
  • ২০১৯ সালে যেখানে গড় আবাসনের দাম ছিল প্রতি বর্গফুট ৪,৭৯৫ টাকা

কলকাতায় ফ্ল্যাট মালিকদের পোয়া বারো। ফ্ল্যাট কিনে ভাড়া দিলেও দেদার লাভ মিলছে। কারণ ফ্ল্য়াটের ভাড়া। ANAROCK-এর সমীক্ষা বলছে, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক পর্যন্ত কলকাতায় আবাসনের গড় দাম ৪৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ভাড়ার রিটার্ন (Rental Yield) বেড়েছে ৬০ বেসিস পয়েন্ট (bps)। অর্থাৎ শুধু সম্পত্তির দামই নয়, ভাড়ার আয়ও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

সমীক্ষায় প্রকাশ, ভারতের আবাসন বাজার এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য একসঙ্গে সম্পত্তির দাম বৃদ্ধি এবং ভাড়ার আয় দুই দিক থেকেই লাভের সুযোগ তৈরি করছে। দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, সম্পত্তির দাম যত বাড়ে, ভাড়ার রিটার্ন তত কমে যায়। কিন্তু দেশের শীর্ষ আবাসন বাজারগুলিতে এখন সেই প্রবণতা বদলাচ্ছে।

কলকাতার চিত্র

তথ্য অনুযায়ী, কলকাতায় ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের Q2 পর্যন্ত আবাসনের গড় মূল্যে ৪৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে রেন্টাল ইয়িল্ড ৬০ বেসিস পয়েন্ট বেড়েছে। অর্থাৎ বাড়ির দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি ভাড়ার আয়ও বেড়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর। 

ANAROCK-এর আরও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কলকাতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ আবাসন এলাকায় ভাড়া বৃদ্ধির হার সম্পত্তির দামের বৃদ্ধিকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, ইএম বাইপাস এলাকায় সম্পত্তির দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বাড়লেও ভাড়া বেড়েছে ৫৩ শতাংশ। অন্যদিকে রাজারহাটে সম্পত্তির দাম বেড়েছে ৩৭ শতাংশ, আর ভাড়া বেড়েছে ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ কলকাতার এই দুই গুরুত্বপূর্ণ আবাসন এলাকায় ভাড়ার বাজারও দ্রুত শক্তিশালী হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে, ২০১৯ সালে ৫০ লাখের একটি ফ্ল্যাট থেকে বছরে ১.৫ লাখ (মাসে ১২,৫০০) টাকা ভাড়া পাওয়া গেলে Rental Yield ছিল ৩%। ২০২৬ সালে সেই ফ্ল্যাটের দাম বেড়ে ৭২.৫ লাখ হওয়ার পর যদি Rental Yield ৩.৬% হয়, তাহলে বছরে ভাড়া দাঁড়ায় প্রায়  ২.৬১ লাখ বা মাসে প্রায় ২১,৭৫০ টাকা। অর্থাৎ বাড়ির দাম বাড়ার পাশাপাশি ভাড়ার আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

আরও জানা গিয়েছে, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক পর্যন্ত দেশের ১১টি বড় আবাসন বাজারে একই সঙ্গে বেড়েছে ফ্ল্যাটের দাম এবং ভাড়ার রিটার্ন। ফলে আবাসন খাত এখন বিনিয়োগকারীদের কাছে দ্বিমুখী আয়ের একটি আকর্ষণীয় ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

Advertisement

দাম বৃদ্ধিতে শীর্ষে NCR

সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সম্পত্তির দামের বৃদ্ধির নিরিখে দেশের মধ্যে সবার উপরে রয়েছে নয়ডা। ২০১৯ সালে যেখানে গড় আবাসনের দাম ছিল প্রতি বর্গফুট ৪,৭৯৫ টাকা। তা ২০২৬ সালের Q2-এ বেড়ে হয়েছে ১০,৭৮০ টাকা। অর্থাৎ সাত বছরে দাম বেড়েছে ১২৫ শতাংশ। একই সময়ে রেন্টাল ইয়িল্ড বেড়েছে ৩.২ শতাংশ থেকে ৩.৯ শতাংশে। অর্থাৎ ৭০ বেসিস পয়েন্ট।

এর পরেই রয়েছে গুরুগ্রাম। সেখানে গড় আবাসনের দাম ৬,১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৩,৩৫০ টাকা প্রতি বর্গফুটে পৌঁছেছে। শতাংশের হিসেবে বেড়েছে ১১৭।  রেন্টাল ইয়িল্ডও ৩.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪.৩ শতাংশে*। 

ভাড়ার রিটার্নে এগিয়ে দক্ষিণ ভারতের শহর

রেন্টাল ইয়িল্ড বৃদ্ধির নিরিখে সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্স করেছে বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদ। দুই শহরেই রেন্টাল ইয়িল্ড ১০০ বেসিস পয়েন্ট বেড়েছে। বেঙ্গালুরুতে সাত বছরে আবাসনের দাম ৯০ শতাংশ বেড়ে প্রতি বর্গফুটে ৪,৯৭৫ টাকা থেকে ৯,৪৫০ টাকায় পৌঁছেছে। একই সময়ে রেন্টাল ইয়িল্ড ৩.৬ শতাংশ থেকে ৪.৬ শতাংশে উঠেছে। হায়দরাবাদে আবাসনের দাম  ৯৩ শতাংশ বেড়ে ৪,১৯৫ টাকা থেকে ৮,০৯০ টাকা প্রতি বর্গফুট হয়েছে। রেন্টাল ইয়িল্ড বেড়েছে ২.৬ শতাংশ থেকে ৩.৬ শতাংশে। 

 

POST A COMMENT
Advertisement