শহরের উড়ালপুল-ব্রিজের রং বদলরাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার আসার পর প্রথম দুর্গাপুজো। আর সেটা যে সবদিক থেকে বিশেষ হবে তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। পুজোয় গোটা তিলোত্তমা শহর সেজে উঠেছে। কোথাও আলোর রোশনাই আবার কোথাও আলপনায় মোড়া রাস্তা। আর এবার সেই জোয়ারে গা ভাসিয়ে বদল হল রাস্তার রং। শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, মোড় এবং উড়ালপুলকে নতুনভাবে সাজিয়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে কলকাতা পুরসভা। ধূসর পিচের রাস্তা এখন হলুদ, গোলাপি, সবুজে মোড়া। রং তুলির ছোঁয়ায় বদলে গিয়েছে রাস্তার হাল।
কলকাতা পুরসভা ও হুগলি রিভার ব্রিজ কমিশনারস (HRBC) শহরের একাধিক রাস্তা ও উড়ালপুল রাঙিয়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই গড়িয়াহাট ও চিংড়িঘাটা উড়ালপুল রং করার কাজ শুরু হয়েছে। শহর সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনার মধ্যেই এই রাস্তা রং করার উদ্যোগ। এর জন্য পুলিশ রাত ১১টা থেকে সকাল ৭ টা পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ রাখার অনুমতি দিলেও, কাজ যদি আরও কদিন চলে তা যান চলাচলের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উদ্বেগে ট্রাফিক বিভাগ। কেএমডিএ-এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে তারা উড়ালপুলের রাস্তায় VIBGYOR রং করার পরিকল্পনা করেছেন। ইতিমধ্যেই শহরের দুই উড়ালপুলে রং করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।
পুরসভার কর্মকর্তা এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে তাঁরা শুক্রবার রাতেই চিংড়িঘাটা উড়ালপুলের অর্ধেক রং করে ফেলেছেন। বাকি রং করার কাজও শীঘ্রই সম্পন্ন হবে। চিংড়িঘাটা উড়ালপুল ৫৮০ মিটার দীর্ঘ এবং একদিকে যান চলাচল করে বলে এটা রং করা অনেকটাই সহজ, বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। যে সব ফ্লাইওভার ও ব্রিজে রঙের কাজ হবে তার মধ্যে রয়েছে অরবিন্দ সেতু, ধনধান্যে সেতু, চেতলা ব্রিজ এবং ইএম বাইপাসের মেট্রোপলিটন ক্রসিংয়ের কাছে দুটি কালভর্ট। কেএমডি-এর কর্মকর্তা বলেন, উড়ালপুলের উপরিভাগ রং করার নির্দেশ সম্প্রতি এসেছে। এটি মূলত পুজোর আগে শহর সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ। এই রংগুলি হয়তো বেশিদিন টিকবে না, কারণ এর ওপর দিয়ে ক্রমাগত যান চলবে, যার ফলে রং উঠে যাবে।
পুলিশ সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার থেকে গড়িয়াহাট উড়ালপুলের রং করার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। দুটি লেনসহ উড়ালপুলটি প্রায় ১ কিমি দীর্ঘ। পুলিশ জানিয়েছে, গড়িয়াহাট উড়ালপুলটি বেশ ব্যস্ত থাকে, তাই রং করার জন্য ছুটির দিনে সকালে একবার একটি লেন বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। সপ্তাহের অন্যান্য দিনে রাত ১১টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত দুটি লেনই বন্ধ রেখে রং করার কাজ চলছে। পুলিশ আশা করছে যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে চতুর্থীর আগেই রঙের কাজ শেষ হয়ে যাবে।
এ প্রসঙ্গে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, গড়িয়াহাট ব্রিজ এখন যেন ভালোবাসা ও আস্থার এক পথে পরিণত হয়েছে। আপনারা আমাদের ওপর, অর্থাৎ আমাদের শ্রদ্ধেয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের ওপর যে বিশ্বাস রেখেছেন এবং বিপুল জনরায় দিয়ে আমাদের ফিরিয়ে এনেছেন—তারই প্রতিফলন এটি। আজ গড়িয়াহাট ব্রিজের এই রাস্তাটি নতুন রূপে সেজে উঠেছে। আপনারা অবশ্যই এসে দেখবেন কীভাবে 'রেড রোড'-কে সাজানো হয়েছে এবং কীভাবে আমাদের গঙ্গার ঘাটগুলোকে সুন্দর করে তোলা হয়েছে—যার সবকিছুই আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় করা হয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, আপনারা অবশ্যই আসবেন। আজ কলকাতা পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে আপনাদের জন্য চমৎকার আলপনা আঁকা হয়েছে। গড়িয়াহাট ব্রিজ ও শ্যামবাজার মোড়েও আরও আলপনা আঁকার কাজ চলছে। সময় পেলে আমরা পার্ক স্ট্রিট ও রাজভবনের সামনেও আলপনা আঁকতে পারি। এই সব আয়োজন আপনাদের জন্যই।