ফাইল ছবিদুর্গাপুজোর আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। অথচ এখনও প্রতিমা তৈরির প্রধান উপকরণ মাটির তীব্র সংকটে ধুঁকছে কুমোরটুলি। মাটি না মেলায় কার্যত থমকে গিয়েছে প্রতিমা তৈরির কাজ। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কাজ পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মৃৎশিল্পীরা।
এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কয়েক হাজার মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সমিতির অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হলেও এখনও কোনও সমাধান মেলেনি। মঙ্গলবারও বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ করেছেন সমিতির কর্তারা। তাঁদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলনের পথেই হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা।
কুমোরটুলি মৃৎশিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাবু পাল বলেন, 'মাটি সরবরাহের পুরো ব্যবস্থাটাই আগে তৃণমূলের দালালদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকা থেকে যাঁরা মাটি পাঠাতেন, এখন তাঁদের অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন। বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, চালান কেটে বৈধভাবে মাটি নিতে হবে। কিন্তু এতদিন ধরে যে অবৈধভাবে মাটি আসত, সেটা আমরা জানতাম না।'
তিনি আরও জানান, এই সমস্যা নিয়ে বিজেপি নেতা স্বপন দাশগুপ্তর সঙ্গে তাঁদের বৈঠকের কথা রয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক পূর্ণিমা চক্রবর্তীর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। তিনি একটি পিটিশন জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
মৃৎশিল্পীদের দাবি, ফলতা, বিষ্ণুপুর, ডায়মন্ড হারবার, ক্যানিং-সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন যেভাবে মাটি আসত, সেই সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করতে হবে।
এদিকে কুমোরটুলির অলিগলিতে এখন আর আগের মতো মাটির স্তূপ চোখে পড়ছে না। রবীন্দ্র সরণি, কুমোরটুলি স্ট্রিট, বনমালী সরকার স্ট্রিট, সর্বত্রই যেন থমথমে পরিস্থিতি। শিল্পীরা বলছেন, এই সময় থেকেই প্রতিমার কাঠামো তৈরি ও খড় বাঁধার কাজ শুরু হয়। কিন্তু মাটি না থাকায় সবকিছুই অনিশ্চয়তার মুখে।