জনকল্যাণ শিবির শেষ হলে অন্নপূর্ণা, আয়ুষ্মানের ফর্ম কি আর জমা হবে না? জানাল কলকাতা পুরসভা

পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, 'হাজার হাজার মানুষ শিবিরে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কিন্তু আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। যাঁরা এখন ফর্ম জমা দিতে পারছেন না, তাঁরা পরে বরো এক্সিকিউটিভ হেলথ অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন।'

Advertisement
জনকল্যাণ শিবির শেষ হলে অন্নপূর্ণা, আয়ুষ্মানের ফর্ম কি আর জমা হবে না? জানাল কলকাতা পুরসভাকলকাতা পুরসভা
হাইলাইটস
  • আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার শেষ সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই দূর করল কলকাতা পুরসভা।
  • পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার জনকল্যাণ শিবির শেষ হয়ে গেলেও আয়ুষ্মান ভারতের আবেদনপত্র জমা দেওয়া যাবে।

আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার শেষ সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই দূর করল কলকাতা পুরসভা। পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার জনকল্যাণ শিবির শেষ হয়ে গেলেও আয়ুষ্মান ভারতের আবেদনপত্র জমা দেওয়া যাবে। শিবির শেষ হওয়ার পরেও সংশ্লিষ্ট বরো অফিসে গিয়ে ফর্ম জমা করতে পারবেন আবেদনকারীরা।

নাম নথিভুক্তির নিয়ম ও যোগ্যতা নিয়ে বিভ্রান্তির মধ্যেই এই স্পষ্টীকরণ সামনে এসেছে। কেএমসি সূত্রে জানা গিয়েছে, ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী সকল বাসিন্দাকে কোনও অতিরিক্ত যোগ্যতা যাচাই ছাড়াই আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। তবে ৭০ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতার শর্ত প্রযোজ্য থাকবে।

পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, 'হাজার হাজার মানুষ শিবিরে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কিন্তু আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। যাঁরা এখন ফর্ম জমা দিতে পারছেন না, তাঁরা পরে বরো এক্সিকিউটিভ হেলথ অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন।'

সোমবার শুরু হওয়া তিন দিনের জনকল্যাণ শিবির বুধবার শেষ হওয়ার কথা। তবে এরপরেও আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থা চালু থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুরসভা। এদিকে, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের মধ্যে অন্য এক ধরনের বিভ্রান্তিও দেখা দিয়েছে। অনেকেই নিশ্চিত নন, তাঁদের নতুন করে ফর্ম পূরণ করতে হবে, নাকি সরকারি কর্মীরাই বাড়ি গিয়ে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।

কসবার বরো-১২ শিবিরে আসা ৮০ বছর বয়সী এক প্রবীণ জানান, প্রায় ৪০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর জানানো হয়, যাঁদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড রয়েছে তাঁদের ফর্ম সংগ্রহ বা জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বলা হয়েছে, সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ করবেন। পুরসভা সূত্রের দাবি, কলকাতায় প্রায় ৮.৫ লক্ষ পরিবার বর্তমানে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। রাজ্যজুড়ে এই সংখ্যাটা ২.৪২ কোটিরও বেশি।

তবে অনেকের প্রশ্ন, এত বিপুল সংখ্যক পরিবারের কাছে পৌঁছাতে কতটা সময় লাগবে? রাজ্য সরকারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ৬ কোটিরও বেশি প্রি-ফিলড ফর্ম তৈরি করা হয়েছে। আশা কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিচয়পত্র যাচাই করবেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য মিলিয়ে দেখবেন। তিনি বলেন, 'আমরা আধার নম্বর যাচাই করে দেখছি কার নতুন করে ফর্ম পূরণের প্রয়োজন রয়েছে আর কার নেই। সেই অনুযায়ী আবেদনকারীদের জানানো হচ্ছে।'

Advertisement

পুরসভার মতে, স্বাস্থ্যসাথী একটি সর্বজনীন স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প। কিন্তু আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতার মানদণ্ড রয়েছে, তাই যাচাই প্রক্রিয়াও তুলনামূলকভাবে বেশি।

উল্লেখ্য, কলকাতার প্রায় সব জনকল্যাণ শিবিরেই গত কয়েক দিন ধরে ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে। তবে পুরসভার এই ঘোষণার পর আবেদনকারীদের উপর চাপ কিছুটা কমবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

 

POST A COMMENT
Advertisement