ফ্লাইওভারের নীচের দোকানে উচ্ছেদের নোটিশ।-ফাইল ছবিকলকাতার বিভিন্ন ফ্লাইওভার ও সেতুর নীচে সরকারি অনুমোদন নিয়ে বছরের পর বছর ধরে ব্যবসা করছেন বহু দোকানদার। নিয়মিত সরকারি সংস্থাকে ভাড়াও দিচ্ছেন তাঁরা। অথচ এবার সেই ব্যবসায়ীরাই উচ্ছেদের নোটিশ পেয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন, সরকার যদি দোকান বরাদ্দ দিয়ে ভাড়া নেয়, তাহলে হঠাৎ কেন উচ্ছেদের নির্দেশ?
সম্প্রতি কলকাতা পুরসভা শহরের ১৫টিরও বেশি ফ্লাইওভার ও সেতুর নিচে থাকা দোকান ও স্টল খালি করার নোটিশ জারি করেছে। এই নির্দেশের আওতায় এমন বহু দোকানও পড়েছে, যেগুলি একসময় কলকাতা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (কেআইটি) বা বর্তমান কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (কেএমডিএ)-র মাধ্যমে বরাদ্দ করা হয়েছিল।
বিজন সেতুর নিচে অবস্থিত কসবা কেআইটি মার্কেটের ব্যবসায়ীদের দাবি, ১৯৭৬ সালে তাঁদের স্টল সরকারি সংস্থার মাধ্যমে বরাদ্দ করা হয়েছিল। এখনও তাঁরা নিয়মিত ভাড়া দিয়ে চলেছেন। ওই বাজারে প্রায় ৬০০টি দোকান রয়েছে।
একই ছবি শিয়ালদা ফ্লাইওভারের নিচের শিশির মার্কেটেও। বাজারের সাধারণ সম্পাদক নকুল কুণ্ডু জানান, ১৯৮৬ সালে কেএমসি তাঁদের দোকান বরাদ্দ করেছিল। বর্তমানে বাজারে ৯০০-রও বেশি স্টল রয়েছে। ব্যবসায়ীরা শুধু ভাড়াই নয়, বাজার রক্ষণাবেক্ষণের খরচ এবং ট্রেড লাইসেন্সের ফিও নিয়মিত জমা দেন।
তবুও উচ্ছেদের নোটিশ পাওয়ার পর তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না, নির্দেশটি তাঁদের মতো বৈধ দোকানের জন্য, নাকি অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্টলগুলির বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানতে ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যেই দু'দফা কেএমসি আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা পাননি।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এমনকি বাজারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেএমসি কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না, সরকারি বরাদ্দপ্রাপ্ত দোকানগুলিও উচ্ছেদের আওতায় পড়বে কি না।
অন্যদিকে, পুরসভা সূত্রের দাবি, রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী ফ্লাইওভার ও সেতুর নিচের সমস্ত জায়গা খালি করতে হবে। উদ্দেশ্য, নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে ফ্লাইওভারের স্তম্ভ ও মূল কাঠামোর অবস্থা সহজে পরীক্ষা করা এবং কোথাও ফাটল বা ক্ষয়ক্ষতি দেখা দিলে দ্রুত তা চিহ্নিত করা।
কেএমসি-র এক আধিকারিক জানান, রাস্তা, ফুটপাত কিংবা ফ্লাইওভারের ডেকের নিচে, যেখানেই দোকান থাকুক না কেন, সব জায়গাই খালি করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কয়েকশো দোকান কীভাবে সরানো হবে, সেই রূপরেখা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
ফলে একদিকে সরকারি নিয়ম মেনে ভাড়া ও কর দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, অন্যদিকে মাথার ওপর ঝুলছে উচ্ছেদের আশঙ্কা। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট নির্দেশিকা না আসা পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না তাঁদের।