কলকাতার একটি ছাদ রেস্তোরাঁ।-ফাইল ছবিকলকাতার রুফটপ বার ও রেস্তোরাঁগুলিতে অগ্নি-নিরাপত্তা ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নিয়ম ভাঙার অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ করল কলকাতা পুরসভা। স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি (এসওপি) লঙ্ঘনের দায়ে শহরের মোট ১৭টি রুফটপ বার ও রেস্তোরাঁকে নোটিশ জারি করা হয়েছে।
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের অগাস্টে জারি হওয়া এসওপি অনুযায়ী প্রতিটি রুফটপ রেস্তোরাঁ বা বারের ছাদের অন্তত ৫০ শতাংশ অংশ খোলা ও সম্পূর্ণ কাঠামোমুক্ত রাখতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও নিরাপদে মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু পরিদর্শনে দেখা গিয়েছে, নোটিশপ্রাপ্ত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান পুরো ছাদই দখল করে রেখেছে, যা নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
পুরসভা সূত্রে খবর, ওই প্রতিষ্ঠানগুলিকে নোটিশ পাঠান হয়েছে। এবং দ্রুত এসওপি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়ম না মানলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার মতো কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
পুরসভা জানিয়েছে, ছাদের অর্ধেক অংশ খোলা থাকলে অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার ব্রিগেড পৌঁছনোর আগ পর্যন্ত মানুষ নিরাপদে সেখানে আশ্রয় নিতে পারবেন। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের হাইড্রোলিক মই যাতে সহজে ছাদে পৌঁছাতে পারে, সেজন্য রাস্তার দিকের অংশ অবশ্যই খোলা রাখতে হবে। ছাদের দরজা তালাবদ্ধ রাখা যাবে না এবং জরুরি নির্গমনের পথ সবসময় পরিষ্কার ও আলোকিত রাখতে হবে।
পুরসভা আরও জানায়, এই ৫০ শতাংশ খোলা জায়গার নিয়মটি শুধুমাত্র রুফটপ কাঠামোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ভবিষ্যতে নতুন করে কোনও রুফটপ নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হবে না। পাশাপাশি আশ্রয় এলাকা বা আশ্রয় তলায় কোনও ধরনের নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এক আধিকারিক জানান, গত পনেরো দিনের মধ্যে এই নোটিশগুলি পাঠানো হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই দ্বিতীয় দফার পরিদর্শন শুরু হবে। শুধু এই ১৭টি নয়, আরও যেসব রুফটপ স্থাপনা এসওপি লঙ্ঘন করছে, সেগুলিকেও পর্যায়ক্রমে নোটিশ পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, গত বছর ২ মে মেয়র ফিরহাদ হাকিম ঘোষণা করেছিলেন, নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করলে কলকাতার ছাদের ক্যাফে, লাউঞ্জ, বার ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হবে। মধ্য কলকাতার ঋতুরাজ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জনের মৃত্যুর ঘটনার পরেই এই কড়া অবস্থান নেয় পুরসভা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ব্যবসায়ীদের অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার কড়া বার্তা দিয়েছিলেন।
পুরসভা, পুলিশ ও ফায়ার ব্রিগেডের যৌথ পরিদর্শন দল ইতিমধ্যেই একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখেছে-বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা সার্টিফিকেট, প্রশিক্ষিত ফায়ার মার্শাল নিয়োগ, পর্যাপ্ত জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা, জরুরি বেরোনোর পথের ম্যাপ, এবং সহজে প্রবেশযোগ্য জরুরি বহির্গমন পথ। নিয়ম মানা না হলে আগামী দিনে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে পুরসভা।