কলকাতায় বাড়ছে বেশি দামের ফ্ল্যাটের চাহিদা আর কম দামের ফ্ল্যাট কিনতে চাইছেন না ক্রেতারা। বরং তাঁদের ঝোঁক বাড়ছে প্রিমিয়াম ও বিলাসবহুল আবাসনের দিকে। ২০২৬ সালের প্রথম ৬ মাসের তথ্য অনুসারে, এখন আর শুধু একটি ফ্ল্যাট কিনতে চাইছেন না সাধারণ মানুষ। বরং বড় জায়গা, উন্নত সুযোগ-সুবিধা এবং প্রিমিয়াম জীবনযাত্রা পেতে চাইছেন। এর ফলে ৫০ লক্ষ টাকার কম দামের ফ্ল্যাট বিক্রি ৩২ শতাংশ কমেছে। সেখানে প্রিমিয়াম আবাসনের চাহিদা তরতরিয়ে বাড়ছে।
২০২৬ সালের প্রথম ৬ মাসের চিত্র
JLL-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশের ৭ প্রধান শহরে আবাসন বিক্রি ৩ শতাংশ বেড়ে ১,৩৮,৩৮২ ইউনিটে পৌঁছেছে। একই সময়ে নতুন আবাসন প্রকল্পের উদ্বোধন ৯ শতাংশ বেড়ে ১,৬৮,৫০৭ ইউনিট হয়েছে।
কেন বাড়ছে প্রিমিয়াম বাড়ির চাহিদা?
১.৫ কোটি থেকে ৩ কোটি টাকা মূল্যের বাড়ির বিক্রি এক বছরে ৫৮ শতাংশ বেড়ে ৫১,২৩১ ইউনিটে পৌঁছেছে। এটিই সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া আবাসন বিভাগ। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ১ কোটি টাকার বেশি দামের বাড়ি মোট বিক্রির ৭১ শতাংশ দখল করেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই হার ছিল ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে, ৫০ লক্ষ টাকার কম দামের বাড়ির বিক্রি ৩২ শতাংশ কমেছে। ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি টাকার বাড়ির বিক্রিও ২০ শতাংশ কমেছে। ফলে ১ কোটি টাকার কম দামের বাড়ির বাজারের অংশীদারিত্ব ৩৯ শতাংশ থেকে নেমে ২৮ শতাংশে এসেছে।
কোন শহরে কেমন বিক্রি?
বেঙ্গালুরু সবচেয়ে ভালো ফল করেছে। সেখানে বিক্রি ১৬ শতাংশ বেড়ে ৩৫,০১৭ ইউনিট হয়েছে। চেন্নাইয়ে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বিক্রি ২৭ শতাংশ বেড়ে ৮,৫৮৭ ইউনিটে এসেছে। দিল্লি-এনসিআরে বিক্রি ৭ শতাংশ বেড়ে ২০,৭৬১ ইউনিট হয়েছে। অন্যদিকে পুনে (-১৪%), হায়দরাবাদ (-৩%), মুম্বই (-১%) এবং কলকাতা (-১%) বিক্রি কমেছে। এই সময়ে দেশের মোট আবাসন বিক্রির ৭৬ শতাংশই হয়েছে বেঙ্গালুরু, মুম্বই, পুনে এবং দিল্লি-এনসিআর- এই চারটি বাজারে।
নতুন প্রকল্প ও বাড়ির দাম
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ডেভেলপাররা ১,৬৮,৫০৭টি নতুন আবাসন ইউনিট বাজারে এনেছেন। যা আগের বছরের তুলনায় ৯ শতাংশ বেশি। এই তথ্য থেকে পরিষ্কার যে, ভবিষ্যতেও চাহিদা শক্তিশালী থাকবে বলে তারা আশাবাদী। নতুন প্রকল্পের দিক থেকে বেঙ্গালুরু শীর্ষে। সেখানে ৪৮,৭৪৮টি ইউনিট চালু হয়েছে। যা এক বছরে ৪১ শতাংশ বেশি। মুম্বইয়ে নতুন প্রকল্প ১৮ শতাংশ এবং দিল্লি-এনসিআরে ১৪ শতাংশ বেড়েছে।
বাড়ির দাম কতটা বেড়েছে?
সাতটি বড় শহরেই আবাসনের দাম ৬ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বেঙ্গালুরুতে দাম সবচেয়ে বেশি ১৫ শতাংশ বেড়েছে। চেন্নাই ও কলকাতায় দাম ১৩ শতাংশ করে বেড়েছে। নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রিমিয়াম আবাসনের চাহিদা অব্যাহত থাকায় এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।
আগামী দিনের সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবকাঠামো উন্নয়ন, দ্রুত নগরায়ণ, মানুষের আয় বৃদ্ধি এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আগামী দিনেও আবাসনের চাহিদা শক্তিশালী থাকবে। যদিও এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে বিক্রির গতি কিছুটা কমেছিল, JLL-এর মতে তা চাহিদা কমার জন্য নয়। বরং মৌসুমি কারণ এবং ক্রেতাদের সিদ্ধান্ত নিতে বেশি সময় লাগার ফলে।