
গঙ্গার জলপথকে কাজে লাগিয়ে শহরের পরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও দ্রুত করতে ‘ওয়াটার মেট্রো’ চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে কেরলের কোচির একটি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা শুরু হতে চলেছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহেই কলকাতা পুরসভায় এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেই বৈঠকে কোচির ওয়াটার মেট্রো প্রকল্পের প্রতিনিধিরা কলকাতায় একই ধরনের পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা ও পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরবেন।
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, কোচির মডেল অনুসরণ করেই কলকাতায় অত্যাধুনিক ব্যাটারি-চালিত বৈদ্যুতিক হাইব্রিড বোট চালানোর প্রস্তাব রয়েছে। এই জলযানগুলি যেমন পরিবেশবান্ধব, তেমনই দ্রুত যাতায়াতের সুবিধা দিতে সক্ষম। গঙ্গার পরিবেশের কোনও ক্ষতি না করেই কী ভাবে পরিষেবা চালানো সম্ভব, সে বিষয়েও আগাম আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।
প্রশাসনের একাংশের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শহরের রাস্তায় যানজট অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি দূষণ নিয়ন্ত্রণেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। যাত্রীরা গঙ্গার জলপথ ব্যবহার করে তুলনামূলক কম সময়ে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছতে পারবেন।
আগামী সপ্তাহের বৈঠকে কোচির ওয়াটার মেট্রো কর্তৃপক্ষের সামনে রাজ্য সরকারের বক্তব্যও তুলে ধরা হবে। কী ধরনের বোট ব্যবহার করা হবে, প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় কত হতে পারে এবং পরিষেবা চালুর রূপরেখা কী হবে, এই সব বিষয় নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা।
উল্লেখ্য, কোচি ওয়াটার মেট্রো দেশের প্রথম এবং এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম সমন্বিত ফেরি-ভিত্তিক গণপরিবহণ ব্যবস্থা। কেরলের কোচি শহরের দশটি দ্বীপকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছে এই পরিষেবা। সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এই বোটগুলি ব্যাটারি ও ডিজেল জেনারেটর-চালিত হাইব্রিড প্রযুক্তিতে চলে এবং পরিবেশবান্ধব হিসেবেই পরিচিত।
দেশের মধ্যে প্রথম মেট্রো পরিষেবা চালু হয়েছিল কলকাতাতেই। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ যাত্রীকে নিয়ে ছুটে চলা সেই মেট্রো এখন শহরের গর্ব। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জলপথ পরিবহণকেও আধুনিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। ওয়াটার মেট্রো চালু হলে কলকাতার পরিবহণ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হবে বলেই মনে করছেন নবান্নের একাংশের শীর্ষ আধিকারিকরা।